সংসদে শীর্ষ ২০ খেলাপির নাম প্রকাশ, এস আলম গ্রুপের দখলে ১১টি প্রতিষ্ঠান
সংসদে শীর্ষ ২০ খেলাপির নাম প্রকাশ, এস আলম গ্রুপের দখলে ১১টি

সংসদে শীর্ষ খেলাপিদের নাম প্রকাশ, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ১১ প্রতিষ্ঠান

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ব্যাংক খাতের শীর্ষ খেলাপিদের নাম প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি তাদের ঋণের সঠিক পরিমাণ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদীয় বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর প্রশ্নে জানতে চান, দেশে প্রকৃত খেলাপি ব্যাংকঋণের পরিমাণ কত, শীর্ষ ২০ খেলাপি কারা, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের ব্যবস্থা কী এবং সংসদ সদস্যদের ব্যাংকঋণ ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ কত।

খেলাপি ঋণের সামগ্রিক চিত্র

অর্থমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত স্থিতিভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানিতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা ঋণকে খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি। এই তথ্যগুলো ব্যাংকিং খাতের ঋণ ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেয়।

শীর্ষ ২০ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১টিই চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। এই গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) গত আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক দখল করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও পাঁচটি ব্যাংকের মালিকানা হাতে নিয়েছিলেন এবং ব্যাংকগুলো থেকে সব মিলিয়ে দুই লাখ কোটি টাকার বেশি তুলে নেন। শীর্ষ ৫টি খেলাপি প্রতিষ্ঠানই এস আলম গ্রুপের, যার মধ্যে রয়েছে:

  • এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লি.
  • এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লি.
  • এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লি.
  • এস আলম কোল্ড রোলেড স্ট্রিলস লি.
  • সোনালী ট্রেডার্স

তালিকায় ৭ থেকে ১০ এবং ১৬ ও ১৭তম স্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোও এস আলম গ্রুপের। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লি., চেমন ইস্পাত লি., এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লি., এবং ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লি.। ইনফিনিটি গ্রুপের মালিক হলেন এস আলমের ছেলে আহসানুল আলম, যিনি শেখ হাসিনার পতনের আগপর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য খেলাপি প্রতিষ্ঠান

তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে থাকা বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানা রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের হাতে। ১৯তম স্থানে থাকা বেক্সিমকো কমিউনিকেশন লিমিটেডও (আকাশ ডিটিএইচ) তাঁর মালিকানাধীন।

অন্যান্য খেলাপিদের মধ্যে রয়েছেন:

  1. আবদুল খালেক পাঠান (কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড)
  2. গোলাম মোস্তফা (দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড)
  3. সিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লি. ও পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লি.
  4. বিএনপি সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান (প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড)
  5. আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ আসলামুল হক (সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি)
  6. রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেডের কর্ণধার রফিকুল ইসলাম

এই খেলাপিদের মধ্যে কেউ কেউ বর্তমানে জেলে আছেন, আবার কেউ পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক ও সমাধানের উদ্যোগ

শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির বড় অংশের ঋণ গেছে ইসলামী ব্যাংক ও একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে। এ ছাড়া রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক, বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংকেও বড় ঋণ রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর।

উচ্চ খেলাপি ও টাকা ফেরত দিতে না পারায় পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত হচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংক পাঁচটি হচ্ছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন, এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এই উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।

সংসদে এই তথ্য প্রকাশ ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ঋণের সঠিক পরিমাণ ও মালিকানার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করায় কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।