রাজশাহীতে অবৈধ জ্বালানি মজুতকারী ব্যবসায়ীর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
রাজশাহীতে জ্বালানি মজুতকারীর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

রাজশাহীতে অবৈধ জ্বালানি মজুত ও অধিক মূল্যে বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় পেট্রল ও ডিজেল অবৈধভাবে মজুত করে অধিক মূল্যে বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ভবানীগঞ্জ এলাকায় পুলিশের অভিযানে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয় এবং পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়।

অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ

বাগমারা থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার দানগাছি ময়েজ উদ্দিন মার্কেটের একটি মুদিদোকানের পেছনে জারকিন ও ব্যারেলের মধ্যে পেট্রল ও ডিজেল মজুত করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, দোকানি আবদুস সাত্তার (৪৫) সুযোগ পেলেই লিটার প্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে এই জ্বালানি বিক্রি করতেন, যা সরকারি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।

খবর পেয়ে মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায় এবং দোকানের ভেতরে গোপন স্থানে রাখা জারকিন ও ব্যারেল আবিষ্কার করে। সেগুলো খুলে ৪০০ লিটার পেট্রল ও ১০০ লিটার ডিজেল পাওয়া যায়, মোট ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। পুলিশ মুদিদোকানি আবদুস সাত্তারকে আটক করে এবং জব্দকৃত সামগ্রী নিয়ে প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায় ও ব্যবসায়ীর স্বীকারোক্তি

জব্দ করা পেট্রল, ডিজেলসহ আবদুস সাত্তারকে তাঁর দোকানে হাজির করা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা। ভ্রাম্যমাণ আদালতে ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার নিজের অপরাধ স্বীকার করেন এবং জানান যে, তিনি অধিক দামে বিক্রির জন্য পেট্রল ও ডিজেল মজুত করেছিলেন, যা তিনি বেশি দামে সংগ্রহ করেছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এরপর আদালতের রায়ে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত তেল খোলাবাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়, যা স্থানীয় বাজারে জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

ব্যবসায়ীর পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাব

আবদুস সাত্তার ঝিকড়ার নামকান গ্রামের মৃত কেফাতুল্লার ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে ভবানীগঞ্জ এলাকায় ব্যবসা করে আসছেন। এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ জ্বালানির অবৈধ মজুত ও অধিক মূল্যে বিক্রি সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

পুলিশ ও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এই ধরনের অসাধু কার্যকলাপ রোধে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করেছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের জন্য নজির স্থাপন করতে পারে।