ট্রেজারি বন্ড বন্ধকে ঋণ দেওয়ার অনুমতি পেল তফসিলি ব্যাংকগুলো
দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো এখন থেকে সরকারি ট্রেজারি বন্ড বন্ধক রেখে গ্রাহকদের ঋণ প্রদান করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিভিশন-১ (বিআরপিডি) থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এই বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় কী বলা হয়েছে?
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে ঋণ শ্রেণিবিন্যাস ও প্রোভিশন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির আলোকে সরকারি বন্ডকে যোগ্য জামানত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ব্যাংক ট্রেজারি বন্ড বন্ধক রেখে গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে ওভারড্রাফট বা মেয়াদি ঋণ প্রদানের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে গ্রাহকের বন্ডটি ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (এফএমআই) সিস্টেমে লিয়েন হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে। এ ছাড়া বন্ডের মুখ্যমূল্যের সর্বোচ্চ ৭৫% পর্যন্ত ঋণ দেওয়া যাবে। তবে সুদসহ মোট ঋণের পরিমাণ কোনো অবস্থাতেই বন্ডের মুখ্যমূল্য অতিক্রম করতে পারবে না।
ঋণের মেয়াদ ও উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধতা
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি বন্ডের মেয়াদের চেয়ে ঋণের মেয়াদ দীর্ঘতর হতে পারবে না। এ ছাড়া কোনো ব্যাংকই বন্ড ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ঋণ দিতে পারবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকিং কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ব্যাংকিং খাতের প্রতিক্রিয়া
ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নির্দেশনার ফলে সরকারি বন্ডধারীরা সহজেই ঋণ সুবিধা পেতে সক্ষম হবেন। একই সঙ্গে নিরাপদ জামানতের ভিত্তিতে ঋণ বিতরণের সুযোগ তৈরি হবে ব্যাংকগুলোর জন্যও। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ব্যাংকিং খাতে তরলতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত আর্থিক বাজারের গতিশীলতা বাড়াতে এবং সরকারি সিকিউরিটিজের ব্যবহার বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যাংকগুলো এখন থেকে আরও নমনীয় শর্তে ঋণ প্রদান করতে পারবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক হতে পারে।
