আমদানি এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দাম বাড়ল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে
দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আমদানি এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দাম বাড়িয়েছে। সূত্রমতে, বিশেষ করে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলোর জন্য এলসি নিষ্পত্তিতে আগের দিনের তুলনায় ডলারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ পয়সা বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে।
ডলারের হারের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন
ব্যবসায়ী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এলসি নিষ্পত্তির জন্য ডলারের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২.৮০ থেকে ১২২.৯০ টাকা। তবে আগের দিন একই ধরনের এলসি নিষ্পত্তির জন্য ডলারের হার ছিল ১২২.৫৭ থেকে ১২২.৭২ টাকা।
ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহেও এলসি নিষ্পত্তির জন্য ডলারের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল – ডলারপ্রতি ১২২.৩০ থেকে ১২২.৩৫ টাকা। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে ডলারের দাম কয়েকবার বাড়ছে।
ব্যবসায়ী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া
এক শীর্ষ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার সকালে তারা যখন কয়েকটি ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করেন, তখন এলসি নিষ্পত্তির জন্য ১২২.৮০ থেকে ১২২.৯০ টাকা পর্যন্ত হার চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শীর্ষ স্তরের ব্যাংকগুলো আগের দিনের তুলনায় বেশি দাম চাইছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, ডলারের দাম বৃদ্ধি আমদানি ব্যয় বাড়ায়, যা সরাসরি বাজারে পণ্যের মূল্যে প্রভাব ফেলে। একটি বেসরকারি সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন: “ডলারের দাম বৃদ্ধি আমদানিকারকদের ব্যয় বাড়ায়। ফলে ভোক্তা পর্যায়েও পণ্যের মূল্য বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা ও বাজার প্রভাব
ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তারাও বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডলার বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান ও রিজার্ভ সংরক্ষণের কৌশল বাজারে কিছুটা প্রভাব ফেলছে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ডলার বাজার দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল এবং কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে অস্থিরতা যাতে না আসে, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি গভর্নরের সাথে অর্থনীতিবিদদের এক বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। ফলে বাজারে একটি বার্তা গেছে যে ভবিষ্যতে ডলারে কিছু চাপ থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি বাজারে ডলার বিক্রি নাও করতে পারে।
ব্যাংকগুলোর নিজস্ব উদ্যোগ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ
এই পরিস্থিতিতে আমদানির জন্য অর্থ প্রদান নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলো নিজস্ব উৎস থেকে ডলারের জোগান নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এজন্য ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা আগের তুলনায় বেশি দামে রেমিট্যান্স ডলার কিনে নিজেদের কাছে রাখছেন।
ব্যাংকারদের মতে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ডলার বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে আমদানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন খাতে প্রভাব পড়তে পারে। তাই ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
