বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে আহসান এইচ মনসুরকে অপসারণ করে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন এই রিটটি দায়ের করেন, যা আগামী সপ্তাহে শুনানি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২–এর সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘন করে আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর পদ থেকে অপসারণ করেছে। এই আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো গভর্নর যদি অক্ষম বা অযোগ্য না হন, তাহলে তাকে পদ থেকে অপসারণ করা যায় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তি ঋণখেলাপি হলে তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই।
মোস্তাকুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
আইনজীবীর দাবি অনুসারে, মোস্তাকুর রহমান একজন ঋণখেলাপি এবং বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এই বিষয়গুলো তার নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা রিটের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত ও প্রজ্ঞাপন
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকার আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর পদ থেকে অপসারণ করে মো. মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
- একটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে আহসান এইচ মনসুরের গভর্নর হিসেবে অবশিষ্ট মেয়াদ অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে।
- অন্য প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে সব ধরনের পেশাগত সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য মো. মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আদেশটি জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এই রিট দায়েরের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনি বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে, যা দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে।
