সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মানববন্ধন, লাঠিচার্জ ও জলকামানের মুখে প্রতিবাদ
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মানববন্ধন ও লাঠিচার্জ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের তীব্র প্রতিবাদ, লাঠিচার্জ ও জলকামানের মুখে ছত্রভঙ্গ

রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বৃহস্পতিবার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা তীব্র প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেছেন। তারা তাদের আমানত অবাধে উত্তোলনের সুযোগ এবং লাভের উপর প্রস্তাবিত 'হেয়ারকাট' বা কর্তন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই বিক্ষোভে আমানতকারীরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও জলকামান দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।

আমানতকারীদের মূল দাবিসমূহ

প্রতিবাদকারী আমানতকারীরা বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছেন, যার মধ্যে প্রধানগুলো হলো:

  • প্রয়োজনের সময় তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলনের অনুমতি প্রদান
  • লাভের উপর প্রস্তাবিত ৪% হেয়ারকাট বা কর্তন সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা
  • ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ আমানত ও লাভ ফেরত দেওয়া
  • সাধারণ ব্যাংকিং লেনদেন ও আমানত-উত্তোলনের সুযোগ নিশ্চিত করা

একজন আমানতকারী ফজলুর রহমান বলেন, 'আমরা ব্যাংকে আমানত রাখি। সরকারের দয়ার উপর কেন নির্ভর করতে হবে? আমাদের ন্যায্য লাভ পাওয়া উচিত।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে গত দুই বছর ধরে পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের লাভ থেকে ৪% কর্তনের প্রস্তাব সরকার দিয়েছে।

আমানতকারীদের দুর্দশা ও হুমকি

প্রতিবাদকারীরা জানান, গত দুই বছর ধরে অনেক আমানতকারী তাদের মূল আমানত বা লাভ ব্যাংক থেকে উত্তোলন করতে পারছেন না। এর ফলে বহু পরিবার মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তারা সতর্ক করেছেন যে যদি তাদের দাবি পূরণ না হয়, তাহলে ১২ মার্চ তারা বাংলাদেশ ব্যাংক অবরোধ করবেন।

মতিঝীল থানার ইন্সপেক্টর সালাহ উদ্দিন বলেন, 'প্রতিবাদকারীরা বিক্ষোভের সময় সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে পুলিশ প্রথমে প্রতিবাদকারীদের সড়ক পরিষ্কার করার অনুরোধ করলেও তারা তা মানেনি, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠি ও জলকামান ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।

হেয়ারকাট কী এবং কেন বিতর্ক?

হেয়ারকাট হলো ব্যাংকিং খাতে একটি বিতর্কিত পদক্ষেপ, যেখানে আমানতকারীদের লাভের একটি অংশ কর্তন করা হয়। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা দাবি করছেন যে এই সিদ্ধান্ত তাদের সাথে চুক্তিভঙ্গের শামিল। তারা জোর দিয়েছেন যে ব্যাংকিং লেনদেন স্বাভাবিক রাখতে এবং আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এই ঘটনা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের চলমান সংকট ও আমানতকারীদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগকে আরও প্রকট করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখতে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।