বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ ও অপসারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগে রিট, বৈধতা চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ ও অপসারণের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে অপসারণ এবং নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন এই রিটটি দায়ের করেন। রিটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব পরিবর্তনের আইনি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত ও প্রজ্ঞাপনের বিবরণ

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারের একটি সিদ্ধান্তে আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর পদ থেকে সরিয়ে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ ও অপসারণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। একটি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, আহসান এইচ মনসুরের গভর্নর পদে নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ জনস্বার্থে বাতিল করা হয়েছে এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে নতুন গভর্নর নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যেখানে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ অনুযায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে চার বছরের জন্য গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। এই প্রজ্ঞাপনেও জনস্বার্থে জারি করা আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রিট দায়েরের প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব

আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুনের দায়ের করা এই রিটটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার আইনি ভিত্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। রিটে দাবি করা হয়েছে যে, গভর্নর পদে নিয়োগ ও অপসারণের সিদ্ধান্তগুলো সঠিক আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করে নেওয়া হয়নি, যা রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই মামলার ফলাফল বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ পরিচালনা এবং অর্থনৈতিক নীতির উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন দেশটি মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রিট দায়েরের মাধ্যমে সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হবে। হাইকোর্টের রায় কী হয়, তা সবার জন্য অপেক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, কেননা এটি শুধু ব্যক্তিগত নিয়োগই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের আইনি কাঠামোকেও প্রভাবিত করবে।