ওভার ইনভয়েসিং রোধে কঠোর নির্দেশ, আমদানি-রফতানি নজরদারি জোরদারের তাগিদ
সম্প্রতি একটি ব্যাংকে ওভার ইনভয়েসিংয়ের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে নজরদারি আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। বুধবার (৪ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গভর্নর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের ওভার ইনভয়েসিং বা আন্ডার ইনভয়েসিং বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা যাচাই ও নিশ্চিতকরণ
বৈঠকে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, সম্প্রতি একটি ব্যাংকে ওভার ইনভয়েসিংয়ের ঘটনা তার নজরে আসে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে দেখা হয় এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তারা ঘটনাটি নিশ্চিত করে। এ প্রেক্ষাপটে গভর্নর নির্দেশ দেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে যাতে কোনো ধরনের ওভার ইনভয়েসিং বা আন্ডার ইনভয়েসিং না হয়, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
পণ্যমূল্য যাচাইয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
গভর্নর আমদানি-রফতানি ক্ষেত্রে পণ্যের ঘোষিত মূল্য সঠিক কি না, তা যাচাই-বাছাইয়ে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দেন। বৈঠক সূত্র জানায়, বর্তমানে পণ্যমূল্য যাচাইয়ের জন্য যে ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থাপনা রয়েছে, তা আরও আধুনিকায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অটোমেটেড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর পদ্ধতিতে পণ্যের দাম যাচাই করার সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ব্যাংকগুলো যেন গ্রাহক ঘোষিত আমদানি মূল্যের যথার্থতা নিজস্ব ব্যবস্থায় যাচাই করতে পারে, সে জন্য একটি সমন্বিত ও সিস্টেমেটিক কাঠামো তৈরির কথাও বলেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক উভয়েই দৈবচয়ন ভিত্তিতে আমদানি-রফতানি চালান মূল্য পরীক্ষা করে থাকে। তবে এখন থেকে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্ষম করে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেরাই অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ শনাক্ত করতে পারে।
ওভার ইনভয়েসিংয়ের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সূত্র আরও জানায়, ২০২২ ও ২০২৩ সালে ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ধরা পড়লেও বর্তমানে তা কিছুটা কমেছে। তবুও বিচ্ছিন্নভাবে এমন ঘটনা সামনে আসছে, যা নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন গভর্নর। এ ছাড়া নীতিমালা ও তদারকি কার্যক্রম আরও বিকেন্দ্রীকরণের আহ্বান জানান তিনি।
ফ্রিল্যান্সার ও ডিম রফতানিকারকদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধানের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। গভর্নরের এই পদক্ষেপ আমদানি-রফতানি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



