টানা চার দিন বৃদ্ধির পর সোনার দামে পতন
দেশের বাজারে টানা চার দিন সোনার দাম বৃদ্ধির পর আজ মঙ্গলবার দাম কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এর ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার দাম ভরিপ্রতি ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা। এই হ্রাসের ফলে চলতি সপ্তাহে সামগ্রিকভাবে সোনার দাম বেড়েছে মাত্র ২ হাজার ৭৯৯ টাকা, যা পূর্ববর্তী চার দিনের ক্রমাগত বৃদ্ধির পর একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
রুপার দামেও কমতি
সোনার দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার দামও কমেছে। আজ ভালো মানের রুপার দাম ভরিপ্রতি ৬৪১ টাকা কমে হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা। গতকাল রুপার দাম ছিল ভরিপ্রতি ৭ হাজার ১৭৩ টাকা। এই হ্রাস সোনা ও রুপার বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার একটি অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি ও মূল কারণ
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন আজ মঙ্গলবার সকালে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বেড়েছে; সে কারণে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে মূল কারণ হলো বিশ্ববাজারে সোনার দামের ওঠানামা। গত দুই সপ্তাহে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তা আবার কমছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে। এছাড়া, বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দামও ঘোষণা করা হয়েছে: ২১ ক্যারেট সোনার দাম ভরিপ্রতি ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিপ্রতি ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা।
সাম্প্রতিক বাজার প্রবণতা
গত জানুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকেই দেশের বাজারে সোনার দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এমনকি কখনও কখনও সকালে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আবার রাতে তা কমানো হয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
মূলত বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো-কমানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার থেকে আজ বুধবার লেনদেনের শুরু পর্যন্ত সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৯৫ ডলার কমেছে। ফলে সোনার দাম এখন আউন্সপ্রতি প্রায় ৫ হাজার ১৫৮ ডলার।
বিশ্ববাজারের প্রভাব
গত বছর থেকেই বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়তি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত ৩০ দিনে সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ২০৪ ডলার, এবং গত ছয় মাসে এই বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২৫ ডলার। এই বৈশ্বিক প্রবণতা দেশীয় বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, যার ফলে দামের ওঠানামা চলছে।
সামগ্রিকভাবে, দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দামের এই পরিবর্তন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নির্দেশ করে। বাজুসের নিয়মিত ঘোষণা এবং বিশ্ববাজারের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতের দামের প্রবণতা অনুমান করা যেতে পারে।
