টানা ছয় দফা বৃদ্ধির পর স্বর্ণের দামে বড় পতন, প্রতি ভরিতে কমেছে ৯ হাজার টাকা
স্বর্ণের দামে বড় পতন, প্রতি ভরিতে কমেছে ৯ হাজার টাকা

টানা ছয় দফা বৃদ্ধির পর স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের বাজারে টানা ছয় দফা বাড়ার পর অবশেষে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) সকালে অনুষ্ঠিত সভার পর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন দাম কাঠামো ঘোষণা করা হয়।

নতুন দাম কাঠামোর বিস্তারিত

বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনা ও রৌপ্যের দাম কমার প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। নতুন দর বুধবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম: প্রতি ভরি দুই লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকায় বিক্রি হবে, যা গত মঙ্গলবার দুই লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা ছিল। এক দিনের ব্যবধানে দাম কমেছে ৯ হাজার ২১৪ টাকা।

২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম: প্রতি ভরি দুই লাখ ৫৬ হাজার ২৪ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে, আগের দিনের তুলনায় আট হাজার ৮৪৭ টাকা কম।

১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম: প্রতি ভরি সাত হাজার ৫২২ টাকা কমে দুই লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

সনাতনী পদ্ধতির স্বর্ণ: প্রতি ভরির দাম ছয় হাজার ৫৮৯ টাকা কমে এক লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকায় স্থির করা হয়েছে।

রৌপ্যের দামেও কমতি

স্বর্ণের পাশাপাশি রৌপ্যের দামও হ্রাস পেয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপা ছয় হাজার ৫৩১ টাকায়, ২১ ক্যারেট ছয় হাজার ২৪০ টাকায়, ১৮ ক্যারেট পাঁচ হাজার ৩৬৫ টাকায় এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি চার হাজার ২৪ টাকায় বিক্রি হবে।

সিদ্ধান্তের স্থায়িত্ব ও ভ্যাট নিয়ম

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ মূল্য কার্যকর থাকবে। এছাড়া, নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতামত

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় কাঁচা সোনার দামের ওঠানামার প্রভাবেই মূলত দেশের বাজারে এ ধরনের মূল্য সমন্বয় হয়ে থাকে। টানা মূল্যবৃদ্ধির পর এই দরপতন ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারের প্রবণতা ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার পরিবর্তনের উপর ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম আরও ওঠানামা করতে পারে।

এদিকে, বাজুসের এ সিদ্ধান্তে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ে গতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রেতারা এখন কম দামে স্বর্ণ সংগ্রহ করার সুযোগ পাবেন, যা আগামী দিনে বাজারের চাহিদা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।