কাঁচাপাট রফতানিকারকদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের সময়সীমা বাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক
দেশের শতভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী কাঁচাপাট রফতানিকারকদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলে বিশেষ ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে— সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।
নতুন নির্দেশনার মূল বক্তব্য
সার্কুলারে বলা হয়েছে, কাঁচাপাট রফতানিকারকদের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখভিত্তিক বিদ্যমান ঋণের বিপরীতে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট বা এককালীন অর্থ জমা দিয়ে পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন করার সময়সীমা ছিল ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। তবে রফতানি কার্যক্রমে বিদ্যমান বিভিন্ন জটিলতা ও বাজার পরিস্থিতির কারণে অনেক উদ্যোক্তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারেননি। খাতটির চলমান সংকট বিবেচনায় নিয়ে সময়সীমা আরও ছয় মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কীভাবে আবেদন করতে হবে
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্রাহক তার শ্রেণিকৃত (খেলাপি) ঋণের স্থিতির ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে পুনঃতফসিলের আবেদন করতে পারবেন। এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ -এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
খাতের উপর প্রভাব
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগের ফলে সংকটে থাকা কাঁচাপাট রপ্তানিকারকেরা ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ পাবেন এবং রফতানি বাণিজ্যে ইতিবাচক গতি সঞ্চার হবে। কাঁচাপাট রফতানি খাতে বর্তমানে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে বাজার অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক চাহিদার ওঠানামা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তটি রফতানিকারকদের জন্য একটি বড় রিলিফ হিসেবে কাজ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
এছাড়াও, এই পদক্ষেপটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কাঁচাপাট খাতকে স্থিতিশীলতা দিতে সহায়ক হবে। রফতানিকারকরা এখন তাদের ঋণ পুনঃতফসিল করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে পারবেন, যা সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত বয়ে আনবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগটি খাতভিত্তিক সহায়তার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য রফতানি খাতের জন্যও মডেল হতে পারে।
