ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তার ৪ বছরের কারাদণ্ড, গ্রাহকের ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ
ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তার ৪ বছরের কারাদণ্ড

ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার বছরের কারাদণ্ডের রায়

গ্রাহকের দুই লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের রাজধানী ঢাকার ওয়ারী শাখার সাবেক সহকারী রিলেশনশিপ কর্মকর্তা মো. আবদুল আহাদকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এই কঠোর রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, মো. আবদুল আহাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৮ ও ৪৭ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিটি ধারায় তাঁকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং এই দণ্ডগুলো একত্রে কার্যকর হবে।

জরিমানা ও মামলার বিস্তারিত বিবরণ

আদালত পাশাপাশি মো. আবদুল আহাদকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সায়মা বেগম নামের এক গ্রাহক ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের ওয়ারী শাখায় ছয় মাস মেয়াদি একটি এফডিআর হিসাব খোলেন এবং সেখানে প্রাথমিকভাবে ৪ লাখ টাকা জমা করেন। ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি মেয়াদ শেষে ওই টাকা উত্তোলন করে পুনরায় ২ লাখ টাকা জমা দেওয়ার জন্য তিনি আবদুল আহাদের কাছে অর্থ হস্তান্তর করেন। আহাদ তাঁকে জমা স্লিপ প্রদান করেন, যা পরে প্রতারণামূলক প্রমাণিত হয়।

দুই মাস পর ২০২০ সালের ১৯ মার্চ টাকা তুলতে গিয়ে সায়মা বেগম দেখেন, হিসাবটিতে কোনো টাকা জমা হয়নি। বিষয়টি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলে আহাদকে দ্রুত শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তিনি দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন, যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১৪ মে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন, যা বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

আদালতের রায় ও তার প্রভাব

এই রায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে দুর্নীতি ও আত্মসাতের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জন্য একটি সতর্কীকরণ হিসেবে কাজ করবে। মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে আদালত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তার দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছেন। এই ঘটনা গ্রাহকদের সতর্কতা অবলম্বন এবং ব্যাংকিং লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার গুরুত্বও তুলে ধরে।