বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ শিল্প পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান বাড়াতে কম সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এই তহবিল সরকারি অর্থায়নে না বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত হবে তা নির্ধারণে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে।
কমিটি গঠন ও লক্ষ্য
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও নীতি সহায়তা নির্ধারণ করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নতুন উদ্যোগটি সরকারের কর্মসংস্থান লক্ষ্যের সাথে যুক্ত করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি চাকরি সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে এই পরিকল্পনা এগোচ্ছে।
অগ্রাধিকার ও শর্ত
পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে জালিয়াতি, অর্থপাচার বা বড় আর্থিক অপরাধের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধা থেকে বাদ পড়বে।
প্রস্তাবিত সহায়তা প্যাকেজে ঋণ নিয়মিতকরণে ডাউন পেমেন্ট শর্ত শিথিলকরণ, কম সুদে নতুন ঋণ সুবিধা, আমদানি-রপ্তানির জন্য ব্যাংকিং সুবিধা এবং কম মার্জিনে এলসি খোলার সুযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ব্যাংকগুলো কারখানা বন্ধের আগে গ্রাহকের আচরণ বিবেচনা করে এই সুবিধা দিতে পারবে।
তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক দ্বারা অর্থায়িত বন্ধ কারখানার তালিকা সংগ্রহ শুরু করেছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
আইএমএফের আপত্তি
তবে প্রস্তাবিত নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে আপত্তি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির মতে, নতুন তহবিল গঠনের পরিবর্তে বিদ্যমান তহবিল ধীরে ধীরে হ্রাস করা উচিত। তাদের আশঙ্কা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন অর্থায়ন বাজারে অতিরিক্ত তারল্য সৃষ্টি করে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক বিকল্প উপায়ে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করছে বলে জানা গেছে।



