ভারতের গম রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: হিলি স্থলবন্দরে তিন বছর পর গম আমদানি শুরু
ভারত সরকার গম রফতানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় দীর্ঘ তিন বছর ছয় মাস ১৩ দিন পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে গম আমদানি পুনরায় শুরু হয়েছে। এই দীর্ঘ বিরতির পর বন্দরে গম আমদানি শুরু হওয়ায় স্থানীয় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গম আমদানির বিস্তারিত তথ্য
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকালে ভারত থেকে তিনটি ট্রাকের মাধ্যমে মোট ১১৬ টন গম বাংলাদেশে আমদানি করা হয়েছে। এই গমগুলো আমদানি করেছে মিফা ইন্টারন্যাশনাল, যেগুলো ভারতের ইজান ট্রেডার্স রফতানি করেছে। উল্লেখ্য, ভারত সরকার ২০২২ সালের ১৩ মে নিজ দেশে গমের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল, যা সম্প্রতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আমদানিকারকদের প্রতিক্রিয়া
হিলি স্থলবন্দরের একজন আমদানিকারক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকার গম রফতানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আমদানিতে আর কোনো বাধা নেই। তবে, এর আগে ভারতে পুরোনো গমের দাম বেশি থাকায় এবং বাংলাদেশে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানিকৃত গম সস্তা দরে বিক্রি হওয়ায় আমদানি লাভজনক ছিল না। এখন ভারতের এফসিআই জাতের গমের মান ভালো, যা দিয়ে উন্নত ময়দা তৈরি হয়। বর্তমানে দেশীয় গম ৩৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, এবং ভারতে গমের দামের সাথে আমদানিকৃত গমের দাম প্রায় সমান হওয়ায় লাভের পরিমাণ সীমিত। নতুন গমের মৌসুম শুরু হলে আমদানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।’
বন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, ‘হিলি বন্দর দিয়ে সর্বশেষ ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে গম আমদানি হয়েছিল। এরপর নিষেধাজ্ঞার কারণে আমদানি বন্ধ ছিল। এখন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় আমদানি পুনরায় শুরু হয়েছে, এবং আমরা গম দ্রুত খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
এই উন্নয়নের ফলে হিলি স্থলবন্দরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।



