হেলিকপ্টার আমদানিতে ১০ শতাংশ কর পুনর্বহালের জোরালো দাবি
এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) হেলিকপ্টার আমদানিতে আরোপিত অতিরিক্ত কর প্রত্যাহার করে আগের মতো ১০ শতাংশ বহাল রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। সংগঠনটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান উচ্চ কর হার দেশের এভিয়েশন খাতের বিকাশে একটি গুরুতর বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় উঠে এলো এই প্রস্তাব
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই দাবি তোলা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় এওএবি-র মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, "আগে হেলিকপ্টার আমদানিতে সর্বসাকুল্যে মাত্র ১০ শতাংশ কর ছিল। কিন্তু গত অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৩৭.২৫ শতাংশ করা হয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের দেশে বছরে বড়জোর একটি বা দুটি হেলিকপ্টার আমদানি হয়। ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি হেলিকপ্টারের ওপর যখন এত বিশাল পরিমাণ ট্যাক্স আসে, তখন কেউই তা কিনতে আগ্রহী হয় না।"
কর কাঠামোর বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে ৩৭.২৫ শতাংশ করের মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদানগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- কাস্টমস ডিউটি (সিডি): ৫ শতাংশ
- ভ্যাট: ১৫ শতাংশ
- অগ্রিম আয়কর (এআইটি): ৫ শতাংশ
- অগ্রিম কর (এটি): ৫ শতাংশ
মফিজুর রহমান এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে ট্যাক্স আগের অবস্থায় (১০ শতাংশ) ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এতে হেলিকপ্টারের সংখ্যা বাড়লে সরকারের অন্যান্য খাত থেকে রাজস্ব আয় আরও বৃদ্ধি পাবে।
এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া
ব্যবসায়ীদের এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, "কাস্টমস ডিউটি ৫ শতাংশের নিচে নামানো মানেই তা শূন্য করে দেওয়া। এছাড়া ভ্যাট ও এআইটির ক্ষেত্রে আপনারা রিফান্ড বা ক্রেডিট সুবিধা পান।" তবে তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা অগ্রিম আয়করের (এআইটি) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারি। সার্বিক বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।"
এই আলোচনা এভিয়েশন খাতের কর নীতির সম্ভাব্য সংস্কারের দিকে ইঙ্গিত করে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



