জ্বালানি সাশ্রয় ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতে বৈদ্যুতিক স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক মওকুফ
বৈদ্যুতিক স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক মওকুফের সিদ্ধান্ত

জ্বালানি সাশ্রয় ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতে বৈদ্যুতিক স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক মওকুফ

জ্বালানি সাশ্রয় এবং শিক্ষা খাতের পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে সরকার একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্কুলে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক বাস বা ইলেকট্রিক স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এই ঘোষণা দিয়েছেন, যা শিক্ষা ও পরিবেশ খাতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

সিদ্ধান্ত ঘোষণার প্রেক্ষাপট

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ে পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে একটি প্রাক-বাজেট পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "গণপরিবহন খাতে জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে সরকার ধাপে ধাপে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।" প্রথম ধাপ হিসেবে শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক শূন্যে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

আবদুর রহমান খান আরও জানান, পরিবহন খাতে জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্যেই স্কুল শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে শুল্ক মওকুফ করা হবে। তিনি বলেন, "আসন্ন জাতীয় বাজেট ঘোষণার জন্য অপেক্ষা না করেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। এ জন্য খুব দ্রুত একটি এসআরও জারি করা হবে।" এই পদক্ষেপটি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে গণপরিবহনে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রভাব

এনবিআর চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন যে, ইলেকট্রিক ভেহিকেল বা ইভি খাতে আগামী বাজেটে আরও কিছু নীতিগত পরিবর্তন আসবে। তবে স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতির বিষয়টি বাজেট পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে না; দ্রুতই এটি কার্যকর করা হবে। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এই উদ্যোগের ফলে একদিকে জ্বালানি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণও হ্রাস পাবে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষা খাতের উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈদ্যুতিক স্কুল বাসের ব্যবহার বাড়লে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।