জামালপুরের ধানুয়া-কামালপুর স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ: ৮ হাজার শ্রমিক বেকার, সরকারি রাজস্ব ক্ষতি
জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ধানুয়া-কামালপুর স্থলবন্দরে গত তিন মাস ধরে পাথর আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় আট হাজার নারী ও পুরুষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন এবং সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব হারাচ্ছে। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পাথর আমদানির মাধ্যমে এই বন্দর প্রতিবছর পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন করে থাকে।
আমদানি বন্ধের কারণ ও প্রভাব
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, ভারতীয় অংশে কাঁচা সড়ক ও বিভিন্ন অস্থিরতার কারণে পাথর আমদানি বন্ধ হয়েছে। এছাড়াও, বন্দরের অতিরিক্ত শুল্ক আদায়ের ফলে ব্যবসায়ীরা লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। পূর্বে এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ ট্রাক পাথর বাংলাদেশে আমদানি হতো, কিন্তু বর্তমানে সেই কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
শ্রমিক মনু মিয়া বলেন, "তিন মাস আগে এই স্থলবন্দর প্রায় ৮ হাজার শ্রমিকের কর্মস্থল ছিল। এখন বেকার অবস্থায় আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। অনেকে ঢাকায় গিয়ে কাজ করছেন, কিন্তু সেখানেও সংগ্রাম করতে হচ্ছে।" অন্য শ্রমিক কামরুল হোসেন যোগ করেন, "পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় আমরা পাথর ভাঙার কাজ করতে পারছি না, অন্য কাজও করতে পারছি না। বাজার করতে ও সমিতির কিস্তি দিতে পারছি না। আমাদের আবেদন, দ্রুত পাথর আমদানি শুরু হোক।"
ব্যবসায়ী ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল উল্লেখ করেন, পাথরের সঙ্গে মাটির শুল্ক ও অতিরিক্ত চার্জ অগ্রাহ্য না হলে আমদানি চালু সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এই অবস্থায় সাত থেকে আট হাজার শ্রমিক ও ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং শুল্ক বিভাগের সহানুভূতি কামনা করে সমস্যার সমাধানে সরকারকে জানানো হয়েছে।
স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা প্রীতিময় কান্তি বড়ুয়া বলেন, "ভারতীয় অংশে ভাঙা সড়কসহ নানা সমস্যার কারণে লোকসান হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আমদানি বন্ধ রাখছেন। আমরা ব্যবসায়ীদের আমদানি চালুর জন্য আহ্বান জানিয়েছি।"
স্থলবন্দরের ইতিহাস ও গুরুত্ব
ধানুয়া-কামালপুর স্থলবন্দরটি ১৯৭৪ সালে মেঘালয় সীমান্তে স্থানীয় কাস্টমস স্টেশন হিসেবে চালু হয়। ২০১৫ সালের মে মাসে এটিকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং পরে ২০১৯ সালে প্রায় ৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকায় আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। যদিও এই বন্দর বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে সক্ষম, তবে পাথর আমদানিই এখানে সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।
এই সংকটের সমাধান না হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। সরকারি হস্তক্ষেপ ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
