যশোরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ৭৭টি মোটরসাইকেল জব্দ, গোডাউন সিলগালা
যশোরে যুক্তরাষ্ট্রের ৭৭ মোটরসাইকেল জব্দ

যশোরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ৭৭টি মোটরসাইকেল জব্দ, গোডাউন সিলগালা

যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের একটি গোডাউন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ৭৭টি মোটরসাইকেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারা। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সোহাইব হাসান আকন্দের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালিয়ে এই মোটরসাইকেলগুলো উদ্ধার করে।

অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ

অভিযানের সময় মোটরসাইকেলগুলোর বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় গোডাউনটি তাৎক্ষণিক সিলগালা করা হয়। মোটরসাইকেলগুলো নওয়াপাড়া রোডের ২৪২ নম্বর বাড়িতে রাখা ছিল। অভিযানে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সুজন কুমারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে একই গোডাউনে কাস্টমস কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছিলেন। সে সময় তিনদিনের সময় নেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ রোববার ফের অভিযান চালানো হলে দেখা যায়, গোডাউনে আমেরিকান ইউএন কোম্পানির মোট ৭৭টি সম্পূর্ণ নতুন মোটরসাইকেল রাখা রয়েছে।

মালিকদের ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ

গোডাউন মালিক হাফিজুর রহমান শিলু মোটরসাইকেলগুলোর রেজিস্ট্রেশন, আমদানি সংক্রান্ত অনুমোদন বা অন্য কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এদিকে, মোটরসাইকেলগুলোর মালিক হিসেবে পরিচিত আবু সাঈদ সাবু অসুস্থতার কথা বলে ঘটনাস্থলে যাননি। পরে তিনি দশদিনের সময় প্রার্থনা করেন।

পরিস্থিতি বিবেচনায় ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিক গোডাউনটি সিলগালা করার নির্দেশ এবং মোটরসাইকেলগুলো জব্দ অবস্থায় সেখানেই রাখার সিদ্ধান্ত দেন। একই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হলে উদ্ধার মোটরসাইকেলগুলো সরকারের হেফাজতে নেওয়া হবে।

তবে প্রথম অভিযানের সময় আবু সাঈদ সাবু জানিয়েছিলেন, তিনি ও তার এক বন্ধু যৌথভাবে মোটরসাইকেলগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে আমদানি করেছেন। মোটরসাইকেলের কাগজপত্র তৈরি এবং ব্যবসা সংক্রান্ত সুবিধার কারণে যশোরে রাখা হয়। তার কাছে কিছু কাগজ ও তার বন্ধুর কাছে কিছু কাগজ রয়েছে। সেগুলো দেখানোর সময় বেঁধে দেওয়ার পর অভিযানিক দল চলে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে এবং আমদানি নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্ত চলছে। মোটরসাইকেলগুলোর উৎস ও বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।