জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের বড় পদক্ষেপ: ১.৫ লাখ টন ডিজেল ও ২৫ হাজার টন অকটেন আমদানি
জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেড় লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল এবং ২৫ হাজার টন অকটেন আমদানির জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা জরুরি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে।
মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদন
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই জ্বালানি আমদানির প্রস্তাবটি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আরও বিশদভাবে আলোচনা করা হবে। সরকারের এই পদক্ষেপটি বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে বিবেচিত হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের প্রভাব
এদিকে, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। তবে, পেট্রল পাম্পগুলোতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি
এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গত শনিবার সন্ধ্যায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি ঘোষিত দাম নির্ধারণে নিম্নলিখিত পরিবর্তনগুলো দেখা যাচ্ছে:
- ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছে।
- অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- পেট্রলের দাম ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে।
- কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে।
এই দাম বৃদ্ধি এবং আমদানি সিদ্ধান্ত একসাথে জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসতে পারে।



