বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল আসন্ন নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে দুই বিশেষজ্ঞ পেসার নিয়ে। আজ মিরপুরে ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে বিশেষজ্ঞ পেসার হিসেবে রয়েছেন মারুফা আক্তার ও ফারিহা ইসলাম। পেস বোলিংয়ের ঘাটতি দূর করতে বিকল্প হিসেবে রিতু মনিকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনার পরিবর্তন
নারী ক্রিকেটের প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে একাদশে একজন পেসার খেলানোর চিন্তা রয়েছে। তিনি বলেন, 'আমাদের ইচ্ছা আছে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে যদি বল বেশি ঘুরে তাহলে দুই পেস বোলার খেলানোর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমি যা দেখছি ইংল্যান্ডে গ্রীষ্মে বল ওরকম মুভ করে না। উপমহাদেশের মতোই উইকেট হয়ে গেছে।' এই চিন্তা থেকে পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। সাজ্জাদ বলেন, 'আমাদের পরিকল্পনা হয়তো ওরকমই থাকবে, এক পেস বোলার আর স্পিনারদের নিয়ে খেলার। যদি বল বেশি ঘুরে, এই সম্ভাবনা আছে। ম্যাচের মাঝখানে অনেক বিরতি আছে, আমাদের রিকভারির সুযোগ থাকবে।'
পেসারদের অবস্থান
ঘরের মাঠে বেশির ভাগ ম্যাচে বাংলাদেশ নারী দলে একমাত্র পেসার হিসেবে খেলেন মারুফা আক্তার। স্কোয়াডে থাকলেও ফারিহা ইসলামের খেলা হয় না। নিয়মিত খেলার মধ্যে থাকেন শুধু মারুফাই। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে ১৫ জনের দলে মাত্র দুই পেসার রাখার কারণ সম্পর্কে সাজ্জাদ আহমেদ বলেন, 'এখন বললে আমাকে ছোট করা হবে, জাতীয় দলকে ছোট করা হবে। কিন্তু আমাদের পাইপলাইনের প্রক্রিয়া খুবই ধীর।' বাধ্য হয়েই কম্বিনেশনে কিছু ছাড় দিয়ে দল বেছে নিতে হয়েছে নির্বাচকদের। নারী ক্রিকেটের দুই সদস্যের নির্বাচক কমিটিতে সাজ্জাদ ছাড়াও আছেন নারী দলের সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতুন।
বিশ্বকাপ দল ও প্রস্তুতি
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী দল: নিগার সুলতানা (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ অধিনায়ক), শারমিন আক্তার, সোবহানা মোস্তারি, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, রাবেয়া খান, ফাহিমা খাতুন, ফারিহা ইসলাম, মারুফা আক্তার, সানজিদা আক্তার, সুলতানা খাতুন, দিলারা আক্তার, জুরাইয়া ফেরদৌস ও তাজ নেহার। বিশ্বকাপের আগে খুব একটা স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ নারী দল। সর্বশেষ পাঁচটি টি-টুয়েন্টি সিরিজেই হেরেছে তারা। গত মাসে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হয়েছে ধবলধোলাই। ওই সিরিজের দল থেকে শারমিন সুলতানা ও সুমাইয়া আক্তারকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন তাজ নেহার ও দিলারা আক্তার।
অধিনায়কের চোট
দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নিগার সুলতানার চোটের প্রসঙ্গ এসেছে। খুব বড় কোনো চোট না থাকলেও ছোটখাটো কিছু চোট নিয়মিতই বয়ে বেড়াতে হয় তাঁকে। এর কোনো বিকল্পও দেখছেন না সাজ্জাদ, 'আমার মনে হয় যে চোটগুলো আছে, ওটা আসলে বিশ্রাম ছাড়া উপায় নেই। বিশ্রাম নিলে ভালো হবে, আবার খেললে আবার বাড়বে। হয় ওকে ক্রিকেট ছেড়ে দিতে হবে অথবা এভাবে ক্রিকেট খেলতে হবে।'
বিশ্বকাপ সূচি ও লক্ষ্য
জুনে বিশ্বকাপের আগে স্কটল্যান্ডে স্বাগতিক স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ নারী দল। ২৫ মে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও বিশ্বকাপের জন্য দেশ ছাড়বেন নিগার সুলতানারা। ১৪ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করবে বাংলাদেশ নারী দল। ১৭ জুন অস্ট্রেলিয়া, ২০ জুন পাকিস্তান, ২৫ জুন ভারত ও ২৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ। বিশ্বকাপে অন্তত তিনটি ম্যাচ জিততে চায় বাংলাদেশ। সাজ্জাদ আহমেদ বলেন, 'পাঁচটা ম্যাচের ভেতরে আমাদের আশা আছে আমরা তিনটা ম্যাচে ইনশা আল্লাহ জিতব। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা এই তিনটা দল নিয়ে আমরা খুব আমরা কাজ করছি। এই তিনটা ম্যাচ আমাদের জেতা উচিত।'



