চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আজ রোববার সকালে আর্জেন্টিনা–জর্ডানের খেলা দেখতে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল আটটায় খেলা শুরুর আগেই প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বড় পর্দায় (এলইডি স্ক্রিন) খেলা চলাকালে মুহুর্মুহু চিৎকারে মুখরিত ছিল পুরো এলাকা। দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল মেসি মাঠে নামার পর করতালি ও চিৎকার আরও বেড়ে যায়। মেসি গোল করলে উল্লাস চরমে ওঠে; শুধু ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনিতে কান পাতা দায় হয়ে পড়ে।
উদ্যাপন ও ফ্ল্যাশ মব
খেলা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ড্যান্স ক্লাবের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপ ফুটবল ফ্ল্যাশ মব। ৩-১ গোলে আর্জেন্টিনার জয়ের পরও আসর ভাঙেনি। উল্লাস-আড্ডা আর উদ্যাপনে ক্যাম্পাস ছিল উৎসবমুখর।
শিক্ষার্থীদের অভিমত
অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদুল হাসান খেলা দেখতে সকালেই হাজির হন। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনার খেলা থাকলেই আগে চলে আসি। গত ১০ বছরে আর্জেন্টিনার একটা খেলাও মিস করিনি। কোনো না কোনোভাবে দেখেছি। এ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা দারুণ খেলছে। এবারও তারা চ্যাম্পিয়ন হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে খেলা দেখার আনন্দটা আরও বেড়ে গেছে। কারণ, প্রতিটা খেলা বন্ধুদের সঙ্গে বসে দেখেছি, আবার আলোচনা করেছি। আজকের খেলাটি ছিল সকালে। তাই সারা রাত বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছি। খেলা দেখার জন্য অপেক্ষা করেছি।’
ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুনওয়ারা মাহপারা বলেন, ‘আজকের ম্যাচটি বন্ধুদের সঙ্গে বসে দারুণ আনন্দ নিয়ে দেখেছি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিশ্বকাপ এভাবে একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ হয়তো একবারই আসে, তাই প্রতিটি মুহূর্তই বিশেষ আমাদের কাছে।’
ব্রাজিল সমর্থকেরাও ছিলেন
খেলা দেখতে এসেছিলেন ব্রাজিলের সমর্থকেরাও। জর্ডানের খেলোয়াড়দের পায়ে বল গেলেই তাঁরা গলা ফাটাচ্ছিলেন। তবে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে পেরে ওঠেননি। ব্রাজিল সমর্থক এক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা আজ জর্ডানের সমর্থনে খেলা দেখতে এসেছিলাম। তবে জর্ডান প্রত্যাশামতো খেলতে পারেনি। আর্জেন্টিনার উদ্দেশে একটাই কথা, ব্রাজিলের বিপক্ষে সম্ভাব্য ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকো। এবারের বিশ্বকাপ আমরাই নেব।’
ফ্ল্যাশ মবের নেতৃত্ব
‘ফ্ল্যাশ মবে’ নেতৃত্ব দেন নাট্যকলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপ উপলক্ষে এমন আয়োজন আগে হয়নি। এটি ছিল আমাদের জন্য একদম নতুন এক অভিজ্ঞতা। বেশির ভাগ অনভিজ্ঞ শিক্ষার্থী নিয়েই আমরা নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। মূল উদ্দেশ্য ছিল এই নাচের মাধ্যমে আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে সবার সামনে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা।’
ছাত্রদলের আয়োজন ও নিরাপত্তা
বড় পর্দায় খেলা দেখার এই আয়োজন ছিল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের। ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে ২০০ বর্গফুটের এক বিশাল স্ক্রিনে তাঁরা খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করেছেন। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মীর হেলাল উদ্দিনের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়েছে। রাউন্ড অব ৩২ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত সব খেলা এতে দেখানোর পরিকল্পনা তাঁদের রয়েছে।
এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নজর রাখছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসকে কেন্দ্র করে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।



