বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোয় এবার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের শৃঙ্খলাবদ্ধ সুইজারল্যান্ড এবং লাতিন আমেরিকার প্রাণবন্ত কলম্বিয়া। বাংলাদেশ সময় বুধবার (৮ জুলাই ২০২৬) রাত ২টায় কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। প্রায় ৫৪ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামটি তার রিট্র্যাকটেবল ছাদ ও সমুদ্রঘেরা পরিবেশের জন্য বিখ্যাত।
দুই দলের ইতিহাস ও বর্তমান ফর্ম
সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে কখনো শিরোপা জিততে পারেনি, তবে চারবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে। সেমিফাইনালে এখনো পৌঁছাতে পারেনি দলটি। অন্যদিকে কলম্বিয়ার সেরা সাফল্য ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে জেমস রদ্রিগেজের জাদুকরী পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছিল। এবার সেই ইতিহাস ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে কলম্বিয়া।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত দুই দল মাত্র তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার একটি করে জয় এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে জয় পেয়েছে কলম্বিয়া।
সুইজারল্যান্ডের শক্তি ও কৌশল
চলতি বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ড তাদের পরিচিত শক্ত রক্ষণ ও সংগঠিত ফুটবল দিয়ে নকআউট পর্বে এসেছে। গ্রুপ পর্বে তারা খুব কম গোল হজম করেছে, যা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। রাউন্ড অব ৩২-এ আলজেরিয়াকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে সুইসদের। দলের মূল ভরসা অধিনায়ক গ্রানিত জাকা, যিনি মাঝমাঠে নেতৃত্ব দেন এবং বল বণ্টনে পারদর্শী। ব্রিল এমবোলোর শক্তি ও গতি প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। এছাড়া ড্যান এনডোয়ে ও রুবিন ভার্গাস দুই প্রান্তে আক্রমণ চালান। রক্ষণে মানুয়েল আকাঞ্জি এবং গোলরক্ষক ইয়ান সোমার দলের নির্ভরতার নাম।
কলম্বিয়ার শক্তি ও কৌশল
কলম্বিয়া গ্রুপ পর্বে দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সমর্থকদের মন জয় করেছে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, উইং দিয়ে দ্রুত আক্রমণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা তাদের অন্যতম শক্তি। শেষ বত্রিশে ঘানাকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ ষোলোয় এসেছে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা। দলের আক্রমণের প্রাণ লুইস দিয়াস, যার ড্রিবলিং ও গতি যেকোনো রক্ষণ ভেঙে দিতে পারে। জেমস রদ্রিগেজ অভিজ্ঞতা দিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। জন আরিয়াস, রিচার্ড রিওস ও জেফারসন লেরমা মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ আনেন। রক্ষণে দাভিনসন সানচেজ এবং গোলরক্ষক ক্যামিলো ভার্গাস দলকে আত্মবিশ্বাস জোগান।
কোচদের প্রতিক্রিয়া
সুইজারল্যান্ডের কোচ বলেছেন, 'কলম্বিয়া দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক দল। আমরা নিজেদের পরিকল্পনা থেকে একচুলও সরব না। ধৈর্যই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।' অন্যদিকে কলম্বিয়ার কোচ বলেছেন, 'নকআউটে সুন্দর ফুটবল যথেষ্ট নয়, ফল আনতে হয়। আমরা জানি সুইজারল্যান্ড কতটা সংগঠিত দল। আমরা নিজেদের ফুটবল খেলতে চাই।'
ম্যাচের সম্ভাব্য ভাগ্য নির্ধারণী দিক
কৌশলগতভাবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় লড়াই হবে মাঝমাঠে। সুইজারল্যান্ড ম্যাচের গতি কমিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইবে, অন্যদিকে কলম্বিয়া দ্রুত উইং ব্যবহার করে লুইস দিয়াসের গতিকে কাজে লাগাতে চাইবে। জাকার ঠান্ডা মাথার পাসিংয়ের বিপরীতে থাকবে জেমস রদ্রিগেজের সৃজনশীলতা। এমবোলোর শক্তির বিপরীতে দাভিনসন সানচেজের রক্ষণ ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।
ভ্যাঙ্কুভারের রাত হয়তো মনে রাখবে এমবোলোর কোনো দুরন্ত গোল বা লুইস দিয়াসের একক নৈপুণ্য। শেষ বাঁশি বাজার পর একটি দল এগিয়ে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে, অন্য দলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন থেমে যাবে। শেষ পর্যন্ত আল্পসের লাল-সাদা পতাকা উড়বে নাকি আন্দিজের হলুদ-নীল-লাল রঙে রাঙাবে নতুন ইতিহাস, সেটাই দেখার অপেক্ষা।



