ডালাস স্টেডিয়ামে পর্তুগাল-স্পেনের শেষ ষোলোর ম্যাচের ৪১তম মিনিটে নাটকীয় এক মুহূর্ত দেখেন ফুটবলপ্রেমীরা। নুনো মেন্দেসের শক্তিশালী শট স্পেনের ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করে জালের দিকে ছুটে যায়। গোলরক্ষক উনাই সিমনের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া বলটি শেষ পর্যন্ত ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে এলে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে রক্ষা পায় স্পেন।
এক মিনিটেই ইতিহাস
এই সৌভাগ্যের মাত্র এক মিনিট পরই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন কীর্তি গড়ে ‘লা রোহা’। ৪২তম মিনিটে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই টানা ৫৬০ মিনিট গোল না খাওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করে স্পেন। এটি বিশ্বকাপে দীর্ঘতম সময় নিজেদের জাল অক্ষত রাখার নতুন রেকর্ড। এর আগে এই কীর্তির মালিক ছিল সুইজারল্যান্ড, যারা ১৯৯৪ থেকে ২০১০ পর্যন্ত তিন বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা ৫৫৯ মিনিট প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি।
রেকর্ডের পথচলা
পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে স্পেনের টানা গোল না খাওয়ার সময় ছিল ৫১৯ মিনিট। বিশ্বরেকর্ড ছুঁতে তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ৪০ মিনিট। নুনো মেন্দেসের সেই শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার ঠিক এক মিনিট পরই রেকর্ডটি নিজেদের করে নেয় স্প্যানিশরা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সেই সময় বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬১ মিনিট।
স্পেনের এই রেকর্ড গড়ার পথচলা শুরু হয়েছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকে। মরক্কোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে অতিরিক্ত সময়সহ ১২০ মিনিট গোল না খাওয়ার পর সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে তারা। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচে মোট ২৭০ মিনিট এবং নকআউট পর্বের আগের ম্যাচেও প্রতিপক্ষকে কোনো গোলের সুযোগ দেয়নি লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। সেই ধারাবাহিকতার ফলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রক্ষণভাগের রেকর্ড এখন স্পেনের দখলে।



