আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, এবারের বিশ্বকাপে কোনো দলকেই আলাদা করে শিরোপার স্পষ্ট দাবিদার হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। তার মতে, ঐতিহ্যবাহী ও শক্তিশালী দলগুলোকেও প্রতিটি ম্যাচে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাই আগের বিশ্বকাপগুলোর মতো এবার কোনো দলকে নিরঙ্কুশ ফেভারিট বলা সম্ভব নয়।
মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে স্কালোনির বক্তব্য
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে মিশর। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপ সবার জন্যই ভীষণ কঠিন। এখানে আর কোনো স্পষ্ট ফেভারিট নেই।’
গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও নকআউটের প্রথম ম্যাচে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচের নিষ্পত্তি না হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নিতে হয় স্কালোনির দলকে।
বড় দলগুলোর সংগ্রাম
তবে শুধু আর্জেন্টিনাই নয়, এবারের আসরে বড় দলগুলোর পথও মোটেই মসৃণ নয়। গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়েকে হারিয়েছে পেনাল্টি থেকে পাওয়া একমাত্র গোলে। অন্যদিকে স্পেন অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে গোল করে পর্তুগালকে বিদায় করেছে। একই সময়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে ব্রাজিল ও পর্তুগাল। এর আগে রাউন্ড অব ৩২ থেকেই বিদায় নিয়েছে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস। আর প্রথম বিশ্বকাপজয়ী উরুগুয়ে গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি।
পরিস্থিতি ও কারণ বিশ্লেষণ
এসব উদাহরণ টেনে স্কালোনি বলেন, ‘আগের বিশ্বকাপগুলোর মতো এবার কোনো জাতীয় দলকেই স্পষ্ট ফেভারিট বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতিও আগের আসরগুলোর তুলনায় অনেক ভিন্ন।’ তিনি আরও বলেন, ‘চার-পাঁচটি দলকে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে ধরা হলেও, তারা এখনও বিশ্বকাপের আগে আমরা যে ধরনের ফুটবল প্রত্যাশা করি, সেই মানের পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি।’
এমন পরিস্থিতির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণও তুলে ধরেন আর্জেন্টিনা কোচ। তার মতে, দীর্ঘ মৌসুমের ক্লান্তি, ঘন ঘন ভ্রমণ, গরম আবহাওয়া, মাঠের অবস্থা এবং ঘাসের মান—সব মিলিয়ে খেলোয়াড়দের পক্ষে নিজেদের সেরাটা উপহার দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্কালোনির দলের প্রতি সন্তুষ্টি
তবে নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের পারফরম্যান্স গ্রহণযোগ্য। আমরা চারটি ম্যাচই জিতেছি, যা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে জিতলেও উন্নতির সুযোগ সব সময় থাকে।’



