লাল কার্ড বিতর্ক: ফোনালাপ স্বীকার করলেন ইনফান্তিনো, প্রভাব অস্বীকার
লাল কার্ড বিতর্ক: ফোনালাপ স্বীকার করলেন ইনফান্তিনো

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশেষে বিশ্বকাপের লাল কার্ড বিতর্কে মুখ খুলেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ফোন করেছিলেন, তবে জোর দিয়ে বলেছেন যে ফোলারিন বালোগুনের সাসপেনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের কোনো প্রভাব ছিল না।

ট্রাম্পের ফোনকল স্বীকার

ইনফান্তিনো এক বিবৃতিতে বলেন, 'হ্যাঁ, ট্রাম্প আমাকে ফোন করেছিলেন। বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে ওর সঙ্গে আমার প্রায় কথা হয়। তবে লাল কার্ড নিয়ে ফিফার সিদ্ধান্তে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। ওকে আমি বলেছিলাম, ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি আলোচনা করছে। তারাই সব সিদ্ধান্ত নেবে। এতে আমার বা আপনার কিছু করার নেই।'

এর আগে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে দাবি করেন যে তিনি ফিফাকে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, 'আমি ফিফাকে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করার অনুরোধ করেছিলাম। কারণ আমার মনে হয়েছিল ওটা ফাউল নয়। আমি স্রেফ আরও এক বার দেখতে বলেছিলাম। সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার নির্দেশ দিইনি।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহার

ফিফা সম্প্রতি নাইজেরিয়ান ফুটবলার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেয়। এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে। ইনফান্তিনো বিবৃতিতে ব্যাখ্যা করেন, 'ফোলারিন বালোগুনের সাসপেনশনের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেক কথা হচ্ছে। সকলকে বলতে চাই, ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি ফিফার নিয়ম মেনেই সব করেছে। তাদের মনে হয়েছে, বালোগুনের লাল কার্ড একটু বেশিই কড়া সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই ওর সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়েছে।'

রেফারি নিয়ে প্রশ্ন

ট্রাম্প ব্রাজিলের রেফারি রাফায়েল ক্লসের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, 'ওই রেফারিকে আমার বেশ সন্দেহজনক মনে হয়েছে। ওর অতীত দেখলেও বুঝতে পারবেন। আমি আর কোনও কথা বলে বিতর্ক বাড়াতে চাই না। কিন্তু ও বেশ সন্দেহজনক।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্প আরও বলেন, 'আমি জীবনে কখনও এ জিনিস দেখিনি। আমি ম্যাচটা দেখেছি। ওটা মোটেই ফাউল ছিল না। কোনও নিয়ম ভাঙা হয়নি। দুই জন ফুটবলার জোরে ছুটে আসার সময় একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। ব্যস, এটুকুই।'

অতীতের নজির

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনো কোনো রাষ্ট্রপ্রধান ফিফার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেননি। ১৯৯৮ সালে ফরাসি ডিফেন্ডার লরাঁ ব্লাঁ লাল কার্ডের কারণে ফাইনাল খেলতে পারেননি। ২০০২ সালে জার্মানির মাইকেল বালাকও একই কারণে ফাইনাল মিস করেন। কিন্তু কোনো দেশের পক্ষ থেকে ফিফার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়নি বা রাষ্ট্রপ্রধান ফোন করেননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই হস্তক্ষেপ বিশ্ব ফুটবল ও ফিফার ভাবমূর্তি আরও কলুষিত করেছে। ইনফান্তিনো ট্রাম্পের পাশে দাঁড়ালেও বিতর্ক কমছে না।

আসন্ন ম্যাচ

বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর ম্যাচে মঙ্গলবার রাত ১০টায় আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে মিশরের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার রাত ২টায় সুইজারল্যান্ড খেলবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে।