মেসির শারীরিক চাপ ও গোল নির্ভরতা: কোপা আমেরিকা প্রস্তুতি নিয়ে স্কালোনির বক্তব্য
মেসির শারীরিক চাপ ও গোল নির্ভরতা: স্কালোনির বক্তব্য

ইন্টার মায়ামির অনুশীলন মাঠ লিওনেল মেসির কাছে বেশ চেনা। পাশেই মূল স্টেডিয়াম। আজ আর্জেন্টিনা শেষ সময়ের প্রস্তুতি সেরেছে মেসির চিরচেনা জায়গাতেই। প্রচণ্ড রোদ্রেও মেসি-ডি পলদের ঘাম ঝড়াতে কোনো কার্পণ্য দেখা যায়নি। নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে তারা কতটা সিরিয়াস তা আজও দেখা গেছে। স্বাভাবিকভাবে দলের বড় তারকা লিওনেল মেসি, তার ওপর চাপ বরাবরের মতো থাকছে। প্রতিটি ম্যাচে গোল করার ভূমিকা নিয়ে কোচ স্কালোনিকে কথা বলতে হয়েছে।

মেসির ওপর শারীরিক চাপ

ম্যাচটি ৯০ মিনিটের বেশি সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা এবং লিওনেল মেসির শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোচ সংবাদ সম্মেলনে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে কিনা তা বিবেচনা করলে... আমরা তা মাঠেই দেখবো। ম্যাচটি কেমন হবে বা তিনি কেমন বোধ করবেন তা না জেনে এখন উত্তর দেওয়ার কোনো মানে হয় না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সেরা প্রস্তুতি নিয়ে এবং প্রতিপক্ষকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত তা দিয়েই ম্যাচের মুখোমুখি হবো। তারপর ম্যাচ কীভাবে এগোয় তা দেখা যাবে। কী ঘটতে পারে তা আগে থেকে বলা খুবই কঠিন।’

মেসির ওপর গোল নির্ভরতা

স্কালোনি মেসির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে কিনা সে বিষয়ে সরাসরি না বলে জানিয়েছেন, ‘লিও গোল করেছে এবং অন্যান্য খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও আমরা গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখেছি। দলের ফরোয়ার্ডদের মধ্যে কেউ একজন গোল করছে, সে যেই হোক না কেন... হয়তো এটি সবকিছুকে এক জায়গায় নিয়ে আসে, কিন্তু সে দলেরই একজন ফরোয়ার্ড।’ এর পাশাপাশি আর্জেন্টিনা প্রতিনিয়ত সুযোগ তৈরি করে চলেছে বলে জানান, ‘আমরা সুযোগ তৈরি করেছি, প্রতিপক্ষের গোলকিপারকে ম্যাচের সেরা তারকা বানানো বা না বানানোর বিষয়টি আলাদা। আমি অবশ্যই চাইব আমাদের পুরো দল গোল করুক, কিন্তু যতদিন আমরা ভালো খেলছি ও জিতছি এবং দল ন্যূনতম কিছু সুযোগ তৈরি করতে পারছে, ততদিন আমি মনে করি এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে দল সুযোগ তৈরি করতে পারছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্বকাপের চাপ দল কীভাবে সামলায়

দলের মানবিক দিক নিয়ে রদ্রিগো ডি পলের মন্তব্যের পর স্কালোনি ব্যাখ্যা করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কীভাবে সেই দায়িত্ব পরিচালনা করেন। তার কথা, ‘সবাই খেলার ইচ্ছা অনুভব করে, দেশের মানুষের জন্য খেলার চাপ, মানুষের প্রত্যাশার জবাব দেওয়ার এক সুন্দর চাপ অনুভব করে।’ তারপর তিনি বলেন, ‘তারা জার্সি গায়ে মাঠে নামা একেকজন ভক্তের মতোই। ছোটবেলা থেকে তারা যা স্বপ্ন দেখেছে, আজ তারা সেটাই বাঁচছে। আমার মনে হয় দল তা প্রতিনিয়ত প্রমাণ করে চলেছে।’ দৈনন্দিন কাজের বিষয়ে তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের কাজের কোনো বাঁধা-ধরা ফর্মুলা নেই। আমরা তাদের সারাক্ষণ বলে দিই না যে কী করতে হবে, তাদের শুধু এটি অনুভব করতে হয়। প্রতিবার যখন তারা ভক্তদের দেখে, সেটাই তাদের জন্য বাড়তি প্রেরণা এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোর এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত, মাঝে মাঝে কথার চেয়ে অনুভূতিই বড় হয়ে ওঠে।’

গরম, যা দুই দলের জন্যই কঠিন

স্কালোনি মিয়ামিতে ম্যাচ আয়োজনের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনি মায়ামিতে বিকাল ৬টায় খেলছেন, যেখানে প্রচুর গরম এবং আর্দ্রতা। ম্যাচটি রাতেও খেলা যেতো।’ তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ‘সন্দেহাতীতভাবেই এটি দুই দলের জন্যই এক। আমি মনে করি দর্শকদের উপভোগের জন্য ম্যাচটি রাতে হলেই বেশি ভালো হতো। আগামীকাল যদি খুব গরম থাকে, তবে ম্যাচের সৌন্দর্য স্বাভাবিকভাবেই এক থাকবে না। তবে সময়সূচি যেভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, আমাদের সেটাই মেনে নিতে হবে এবং এটাই বাস্তব।’