সাহারা মরুভূমির মোটা লাল বালুর ওপর পড়া দুপুরের খাড়া সূর্যের তাপের মতো ছিল আব্বার রাগ। আব্বাকে আমরা ভয় পেতাম, ভয়াবহ ভয়। আব্বার গলার আওয়াজ আসত হলকুম থেকে।
১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের রাত
১৯ জুন, ১৯৯৪, মধ্যরাত। তুলকালাম বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলছিল। আমাদের রঙিন টেলিভিশন কেনা হয়েছিল বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার জন্য। শিক্ষা বোর্ডের বাড়ির বিশাল ড্রইংরুমে আমরা ভাইবোন সবাই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে খেলা দেখছিলাম। আব্বা ছিলেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।
টান টান অবস্থায় খেলা দেখা
খেলা দেখতে হচ্ছিল টান টান অবস্থায়। আব্বা আমাদের সঙ্গে খেলা দেখতে বসেছিলেন। খেলা ছেড়ে উঠে যাওয়া যাচ্ছিল না। আব্বা খেলা দেখতে বসেছিলেন আয়োজন করে। তাঁর সামনে ছিল পানের বক্স। তিনি এক একটা পান মুখে দিচ্ছিলেন আর চিবিয়ে মুখের ভেতর পানের তুষ বানিয়ে ফেলছিলেন। খেলা ছেড়ে উঠে গেলে আব্বা রেগে যেতে পারেন।
ক্যামেরুনের পক্ষে সমর্থন
খেলা ছিল সুইডেন আর ক্যামেরুনের। আব্বা ক্যামেরুনকে সাপোর্ট করছিলেন। আমরাও সেই ম্যাচে আব্বার অনুসরণে ক্যামেরুনের সাপোর্টার হয়েছিলাম। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় ক্যামেরুনের ৪২ বছর বয়সের রজার মিলা খেলছিলেন। আমরা ক্যামেরুনের সাপোর্টে উত্তেজনা বোধ করছিলাম।
গোলের মুহূর্তে উচ্ছ্বাস
ক্যামেরুনের পক্ষে ডেভিড এম্বে গোল দিলেন। আব্বা পান চিবুতে চিবুতে প্রবল উত্তেজনায় মাথা ঝাঁকিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে মাথা জোরে টান দিয়ে চিৎকার করে বললেন, 'গোওওওওওও।' আব্বার মুখ থেকে পুরো ঘরে ফোয়ারার মতো পানের তুষ ছড়িয়ে পড়ল। তাঁর তুমুল আনন্দে আমাদের খেলা দেখা সহজ হয়ে গেল। আমরা সবাই একসঙ্গে গলা ছেড়ে চেঁচিয়ে উঠলাম, 'গোওওওওওওল।'
পারিবারিক আনন্দের শীতলপাটি
গ্রুপ পর্বের সেই খেলায় ক্যামেরুন আর সুইডেন দুটো করে গোল দিয়ে পয়েন্ট ভাগ করে নিয়েছিল। তবে সে রাতের খেলায় আব্বার আনন্দে আমাদের আনন্দ বৈশাখ মাসে শিমুল তুলার মতো ফেটে আকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই পারিবারিক আনন্দের শীতলপাটি।



