ছায়া থেকে আলোয় জিওভানি লো সেলসোর অসমাপ্ত মহাকাব্য
ছায়া থেকে আলোয় জিওভানি লো সেলসোর অসমাপ্ত মহাকাব্য

১৯৯৬ সালের ৯ এপ্রিল আর্জেন্টিনার সান্তা ফে প্রদেশের রোসারিও শহরে জন্ম নেওয়া জিওভানি লো সেলসো ছোটবেলা থেকেই ফুটবলপ্রেমী। রোসারিও সেন্ট্রালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করলেও সহজ পথ পাননি তিনি। ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইঁ (পিএসজি) তাঁকে দলে নেয়, কিন্তু সুযোগ আসা-যাওয়ার পালায় কাটে সময়। প্রতিভা থাকলেও অপেক্ষা করতে শেখেন লো সেলসো।

রিয়াল বেতিসে নতুন জীবন

স্পেনের রিয়াল বেতিসে এসে লো সেলসো নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেন। মাঝমাঠে তাঁর দৃষ্টি, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগ ভেঙে দেওয়া পাস তাঁকে দলের হৃদস্পন্দনে পরিণত করে। বেতিসে তিনি নিজের ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। পরে টটেনহ্যাম হটস্পারে যোগ দিলেও চোট ও ছন্দপতনে ভুগেছেন, আবার ফিরে গেছেন বেতিসে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্থান

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে লো সেলসোর উপস্থিতি দলের খেলায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। তিনি সময় নিয়ে অপেক্ষা করেন, তারপর এমন পাস দেন যা প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ভেঙে দেয়। তাঁর বাঁ পায়ের স্পর্শে বল কখনও তাড়াহুড়ো করে না। ফুটবল জগৎ গোলদাতাদের স্মরণ রাখলেও গোল সৃষ্টিকারীদের কথা কম বলা হয়; লো সেলসো সেই নীরব স্রষ্টাদের একজন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ প্রত্যাবর্তন

গত বিশ্বকাপ চোটের কারণে মিস করার যন্ত্রণা পোহানো লো সেলসো চলতি বিশ্বকাপে নতুন স্বপ্ন নিয়ে ফিরেছেন। আর্জেন্টিনা দলে জায়গা পাওয়ার পর নিজের ছাপ রাখার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। ম্যাচের ১৯ মিনিটে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। এই গোলটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি ছাড়া আর্জেন্টিনার অন্য কোনো ফুটবলারের প্রথম গোল।

শুধু গোল নয়, পুরো ম্যাচ জুড়ে মাঝমাঠে তাঁর নিয়ন্ত্রণ, বল বণ্টন ও আক্রমণের ছন্দ তৈরিতে অসাধারণ ছিলেন লো সেলসো। আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই জয় পেয়ে পরের পর্বে উঠেছে, এবং সেই যাত্রায় লো সেলসোর নাম নতুন করে উচ্চারিত হতে শুরু করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ধৈর্যের মহাকাব্য

জিওভানি লো সেলসোর ফুটবল জীবন ধৈর্যের এক পরীক্ষা। রোসারিওর ছোট্ট ছেলেটি যখন প্রথম বল পায়ে দৌড়ায়, তখন কেউ জানত না সামনে মহাদেশ পেরোনো যাত্রা অপেক্ষা করছে। আর্জেন্টিনায় বেড়ে ওঠা মানেই প্রতিদিন নিজেকে প্রমাণ করা। প্রতিভা অনেক, সুযোগ সীমিত। লো সেলসো ছোটবেলা থেকেই আলাদা ছিলেন—জায়গা বোঝার ক্ষমতা, বল ছাড়ার সঠিক সময় নির্বাচন, অন্যদের খেলার মান বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা। তাঁর বাঁ পায়ের পাসে কখনও তাড়াহুড়ো নেই, খেলায় অহংকার নেই, ফুটবলে আছে চিন্তা।

ফুটবল ইতিহাস হয়তো সবসময় তাঁকে প্রথম সারির পোস্টারে রাখবে না, কিন্তু অনেক বড় জয়ের পেছনে একজন নীরব কারিগর থাকেন। জিওভানি লো সেলসো সেই কারিগরদের একজন। মাঠে নিজে কথা বলেন না, বলকে কথা বলতে দেন। সেই বলই তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়—সব নায়ক গোল করে না, কেউ কেউ গোলের গল্প লিখে দেয়।