হাভার্টজ-সানেদের সামনে প্যারাগুয়ে বাধা, নাগলসমানের চ্যালেঞ্জ
হাভার্টজ-সানেদের সামনে প্যারাগুয়ে বাধা, নাগলসমানের চ্যালেঞ্জ

ইউলিয়ান নাগলসমানের সময়টা একটু অদ্ভুতই যাচ্ছে। বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলার পর জার্মানির কোচের শেষ ৩২-এর আগে একটু নির্ভারই থাকার কথা। কিন্তু ইকুয়েডরের বিপক্ষে হারটা জার্মানির সদর দরজায় এমনই অনেকগুলো ফুটো দেখিয়ে দিল, আজ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নামার আগে সেগুলো মেরামত করে ফেলার কঠিন কাজটা করতে হবে জার্মানির কোচকেই। প্রশ্ন হচ্ছে, নাগলসমান কি তা পারবেন?

গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে জার্মানির ঐতিহ্য

এর আগে জার্মানির কোচের সামনে গ্রুপ পর্বের ফাঁড়া কাটানোর চ্যালেঞ্জ ছিল। ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ের পরের দুই আসরেই জার্মানি বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকে। ইতিহাস বলে, জার্মানি গ্রুপ পর্বের বাধা পার হওয়া মানেই অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলা। ৪৮ দলের বিশ্বকাপ হওয়ায় এবার কোয়ার্টার ফাইনালের আগে বাড়তি একটা ম্যাচ খেলতে হবে জার্মানিকে।

প্যারাগুয়ের শক্তি ও দুর্বলতা

প্যারাগুয়ে এমনিতে জার্মানির জন্য খুব বড় দুশ্চিন্তা হওয়ার কথা নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে উড়ে যাওয়ার পর প্যারাগুয়ে যেভাবে ফিরে এসেছে, তাতে জার্মানিকে তাদের নিয়ে আলাদা করে ভাবতেই হচ্ছে। তুরস্কের সঙ্গে জয়ের পর গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচটা প্যারাগুয়ে ড্র করেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। সর্বশেষ দুই ম্যাচে নিজেদের চেনা ছকে ফিরতে পেরেছে প্যারাগুয়ে, রক্ষণও নিজেদের কাজটা করেছে ঠিকঠাক। সুযোগ পেলে গেছে পাল্টা আক্রমণে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২৪ বছর আগের স্মৃতি

২৪ বছর আগে এই ছকে জার্মানিকে প্রায় আটকেই দিয়েছিল প্যারাগুয়ে। সেবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শেষ ১৬ এর ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় জার্মান আক্রমণ ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন প্যারাগুয়ের কিংবদন্তি গোলকিপার হোসে লুই চিলাভার্ট। শেষ পর্যন্ত ৮৮ মিনিটে অলিভার ন্যুভিলের গোলটা ভাঙতে পারে প্যারাগুয়ের ইস্পাতকঠিন রক্ষণ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নাগলসমানের চ্যালেঞ্জ

নাগলসমান নিশ্চয় চাইবেন না আজকের ম্যাচে তার অপেক্ষা এতটা দীর্ঘায়িত হোক। কিন্তু গ্রুপ পর্ব মনে করিয়ে দিচ্ছে, তেমন হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কুরাসাও ম্যাচটা বাদ দিলে আইভরিকোস্টের বিপক্ষেও তো জার্মানির জয় এসেছে শেষ সময়ে। সেই ম্যাচে জার্মানির জোড়া গোলের নায়ক ডেনিজ উনদাভ এখন পর্যন্ত জার্মানির আক্রমণের সবচেয়ে ক্ষুরধার অস্ত্র। কিন্তু সেই অস্ত্রকেই প্রথম একাদশে রাখছেন না জার্মানি কোচ।

ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের প্রভাব

টুর্নামেন্টে জার্মানির ভরসা হতে পারতেন যাঁরা, তাঁদের এখন পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে নিষ্প্রভই বলতে হয়। ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস, কাই হাভার্টজ এখনো সেরা ছন্দে নেই, জামাল মুসিয়ালা তো গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপের বাজে চোটের পর নিজের ছায়া হয়েই আছেন। নাগলসমানের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে ফর্মে থাকা ডিফেন্ডার নিকো স্লটারবেককে পুরো টুর্নামেন্টের জন্য হারিয়ে ফেলা। জার্মানির ডিরেক্টর রুডি ফোলার তাই মনে করিয়ে দিলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে আমাদের গত দুই বছরে বিশ্বসেরা হয়ে ওঠা খেলোয়াড়দের অবশ্যই ভালো করতে হবে। ওরাও জানে ওদের উন্নতির জায়গা আছে।’ তবে ভোলার আশাবাদী, ‘আমার মনে হচ্ছে ওদের জ্বলে ওঠার মুহূর্ত এসে গেছে।’ আপাতত এই মুহূর্তে ফোলার আর নাগলসমানের তো বটেই, পুরো জার্মানির এটাই চাওয়া।