২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম আর্জেন্টিনার প্রতি ফিফার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। গতকাল (৭ জুলাই) আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জয়লাভ করে।
মিশরের ক্ষোভ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত
ম্যাচের ৬০তম মিনিটে মিশরের মোস্তফা জিকো গোল করলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) হস্তক্ষেপে তা বাতিল করা হয়। কারণ গোল তৈরির সময় মিশরের মিডফিল্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের জার্সি টেনে ধরেন এবং পায়ের ওপর পা তুলে দেন। এই ফাউলের কারণে গোল বাতিল হলে মিশর ক্ষুব্ধ হয়। দ্বিতীয় বিতর্ক তৈরি হয় ৯০ মিনিটের পর যোগ করা সময়ে। ম্যাচ তখন ২-২ সমতায়। যোগ করা সময়ের ৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার এনসো ফের্নান্দেস গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন।
ফ্রান্স কোচের বক্তব্য
আর্জেন্টিনা কি ফিফার কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে দেশম বলেন, ‘না (সম্ভাব্য প্রভাবের কোনো সন্দেহ নেই)। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। তবে আমি এই নীতিতে বিশ্বাস করি যে রেফারি নিয়োগ হয়ে গেছে, এবং এ বিষয়ে আমাদের করার কিছু নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি রেফারিদের ওপর আস্থা রাখার চেষ্টা করি। রেফারিকে কখনোই প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখি না। আগামীকালের ম্যাচে তেলো এবং তাঁর সহকারী রেফারিরা ঠিক ততটাই দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, যতটা লেতেক্সিয়ে এবং তাঁর সহকারীরা আগের একটি ম্যাচে করেছিলেন।’
ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে আর্জেন্টাইন রেফারি
ফিফা গতকাল এক বিবৃতিতে ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের জন্য পাঁচ আর্জেন্টাইন রেফারির নাম ঘোষণা করে। প্রধান রেফারি ফাকুন্দো তেলো, সহকারী হুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল শেড, চতুর্থ রেফারি দারিও এরেরা এবং রিজার্ভ সহকারী ক্রিস্টিয়ান নাভারো। এই ঘোষণা নিয়ে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
দেশমের প্রতিক্রিয়া
দেশম বলেন, ‘অবশ্যই এমন কিছু সিদ্ধান্ত সবসময়ই থাকে যা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। সবকিছু নির্ভর করে আপনি কোন পক্ষের সমর্থক তার ওপর। কিন্তু আমার কাছে প্রতিপক্ষ হলো মরক্কো। রেফারি মাঠে আছেন যাতে খেলার নিয়মগুলো যতটা সুশৃঙ্খলভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা নিশ্চিত করতে।’



