আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে ডিআর কঙ্গো। প্রথমবার বিশ্বকাপে এসেই ১০ মিনিটে এগিয়ে যাওয়া উজবেকিস্তান প্রায় পুরো ম্যাচ জুড়ে স্বপ্নের এক রাত কাটাচ্ছিল। কিন্তু শেষ ২২ মিনিটে তিন গোল হজম করে সেই স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে।
প্রথমার্ধ: শোমুরোদভের জাদু, ইতিহাস উজবেকিস্তানের
ম্যাচের ১০ মিনিটে এলদর শোমুরোদভ অসাধারণ এক গোলে এগিয়ে নিয়ে যান উজবেকিস্তানকে। এটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাদের প্রথম গোল এবং প্রথমবার কোনো ম্যাচে লিড নেওয়ার মুহূর্ত। বিরতির আগে শোমুরোদভ দূর থেকে আরেকটি চিপ শট চেষ্টা করেন, যা ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধে ডিআর কঙ্গো কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও কার্যকর কিছু করতে পারেনি। বিরতিতে উজবেকিস্তান ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল, যা তাদের ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপ ম্যাচে লিড নিয়ে বিরতিতে যাওয়ার ঘটনা।
দ্বিতীয়ার্ধ: পেনাল্টি থেকে শুরু প্রত্যাবর্তন
দ্বিতীয়ার্ধে কঙ্গো চাপ বাড়ালেও দীর্ঘ সময় গোলের দেখা মেলেনি। ৬৮ মিনিটে আসে টার্নিং পয়েন্ট। উজবেকিস্তানের আবদুকোদির খুসানভ বক্সের ভেতর প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কাড়তে গিয়ে ফাউল করেন, পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন ইয়োয়ান উইসা— সমতা ১-১।
মাত্র ১০ মিনিট পরেই, ৭৮ মিনিটে এগিয়ে যায় কঙ্গো। এলিয়ার দৌড় থেকে ডিফ্লেকটেড বল তাড়া করে তীক্ষ্ণ রিফ্লেক্সে লুজ বলে জালে পাঠান ফিস্তন মায়েলে— ২-১। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নিশ্চিত করেন উইসা নিজেই। এলিয়ার পাস থেকে বল পেয়ে পা বদলে নিচু শটে কোণায় বল জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি— ৩-১।
ইতিহাসের পাতায় দুই নাম
এই জয়ে ডিআর কঙ্গো তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ উপস্থিতিতেই (১৯৭৪ সালের পর প্রথম) প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে পৌঁছে গেছে। দলটির ফুটবল ইতিহাসে এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। উইসার জোড়া গোল আর মায়েলের সিদ্ধান্তমূলক স্ট্রাইক— দুই জনই হয়ে উঠেছেন আফ্রিকান এই দলের নায়ক। অপরদিকে উজবেকিস্তানের স্বপ্নের অভিযান শেষ হয়েছে হৃদয়বিদারকভাবে। শেষ ২২ মিনিটে তিন গোল হজম করে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। তবে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসে গোল করা ও লিড নেওয়ার মতো মুহূর্তগুলো তাদের জন্য চিরস্মরণীয় থাকবে।
গ্রুপ ‘কে’ থেকে নকআউটে গেছে কলম্বিয়া, পর্তুগাল ও ডিআর কঙ্গো। শেষ ৩২-এ কঙ্গোর প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।



