ইউরো ২০২৪-এ ক্রোয়েশিয়ার শেষ মুহূর্তের গোল বাতিলের ঘটনায় ফুটবল বিশ্বে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর যোগ করা সময়ে ক্রোয়েশিয়ার আক্রমণে গোল হয়, কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনায় গোলটি বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড় ও সমর্থকরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক
ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলের আগে ক্রোয়েশিয়ার একজন খেলোয়াড় অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ ও দর্শক মনে করছেন, অফসাইডের ব্যবধান খুবই সামান্য ছিল এবং এমন সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাত্কো ডালিচ বলেছেন, 'এটি একটি হতাশাজনক সিদ্ধান্ত। আমরা মনে করি গোলটি বৈধ ছিল। ভিএআর-এর ব্যবহারে আরও স্পষ্টতা প্রয়োজন।'
ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব
এই গোল বাতিলের কারণে ক্রোয়েশিয়া ম্যাচটি ড্র করতে পারেনি এবং প্রতিপক্ষ দল জয় পায়। ফলে গ্রুপ পর্বের অবস্থানেও পরিবর্তন আসে। ক্রোয়েশিয়ার পক্ষ থেকে উয়েফার কাছে এই সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়েছে। তবে উয়েফা জানিয়েছে, ভিএআর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং এ বিষয়ে আর কোনো পরিবর্তন হবে না।
ফুটবল বিশ্বে প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনা ফুটবল বিশ্বে ভিএআর-এর ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রযুক্তি নির্ভরতা ম্যাচের স্বাভাবিক গতি ও উত্তেজনা নষ্ট করছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন, নিয়ম মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এতে কোনো ভুল নেই। সাবেক রেফারি ও বিশ্লেষকরা বলছেন, অফসাইডের নিয়মে আরও স্পষ্টতা আনা দরকার, যাতে সামান্য ব্যবধানে গোল বাতিলের ঘটনা কমে।
এই ম্যাচের পর ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ফেডারেশন উয়েফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। তারা বলেছে, এই সিদ্ধান্ত তাদের দলের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তবে উয়েফা বলেছে, তারা ভিএআর প্রোটোকল অনুযায়ী কাজ করেছে এবং সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই বিতর্ক ভবিষ্যতে ভিএআর-এর নিয়ম পরিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে। ফুটবলের আইন প্রণেতা আইএফএবি ইতিমধ্যে অফসাইড নিয়ম সহজ করার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। তবে এখনই কোনো পরিবর্তন আসছে না। এই ঘটনা ফুটবল প্রেমীদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্ন রেখে গেছে: প্রযুক্তি কি খেলাকে ন্যায্য করছে, নাকি এর স্বতঃস্ফূর্ততা নষ্ট করছে?



