ইরানের ফুটবল দল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অনন্য বেদনার গল্প লিখেছে। এবারের আসরে অপরাজিত থেকেও তারা গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় শুধু গোল ব্যবধানের কারণে। টুর্নামেন্টজুড়ে নানা প্রতিকূলতা তাদের পথকে করেছে আরও কঠিন।
গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকেও বিদায়
গ্রুপ পর্বে ইরান একটি ম্যাচও হারেনি। নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে ড্র করার পর মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে তাদের জিতলেই নকআউট নিশ্চিত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করে তারা।
মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে ইরান পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ায়। রামিন রেজাইয়ানের গোলে সমতায় ফেরে তারা। দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে শোজায়ে খলিলজাদেহের গোলটি অফসাইডে বাতিল হয়। ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, প্রতিপক্ষের শেষ ডিফেন্ডারের চেয়ে তার পায়ের আঙুল সামান্য এগিয়ে ছিল। এই গোল বাতিল ইরানের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।
শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা
নকআউটে ওঠার জন্য ইরানের ভাগ্য নির্ভর করছিল অন্যদের ম্যাচের ওপর। ক্রোয়েশিয়া-ঘানা ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার জয় এবং উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ডিআর কঙ্গোর জয় তাদের সুযোগ কমিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছিল ইরান।
ম্যাচটি ৯৩ মিনিট পর্যন্ত ২-২ সমতায় ছিল। রিয়াদ মাহরেজের গোলে আলজেরিয়া এগিয়ে গেলে ইরানের স্বপ্ন জেগে ওঠে। কিন্তু শেষ সেকেন্ডে সাশা কালাদজিচের হেডে অস্ট্রিয়া সমতায় ফিরলে ইরানের স্বপ্নভঙ্গ হয়।
আয়োজকের বৈষম্যমূলক আচরণ
ইরানের কোচ ঘালেনোই দাবি করেন, আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাদের অনুশীলন ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় সরিয়ে নেওয়া হয়। ভিসা শর্ত অনুযায়ী, তারা কেবল ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারত এবং ম্যাচ শেষের দিনই দেশ ছাড়তে হতো।
ঘালেনোই বলেন, 'আমি আমার খেলোয়াড় ও পুরো দলকে নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। এই তরুণেরা যা করে দেখিয়েছে, তা ইতিহাসে লেখা থাকা উচিত। কারণ, আয়োজক দেশ আমাদের সঙ্গে চরম অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে।' তিনি ইরানকে টুর্নামেন্টের 'সবচেয়ে নিপীড়িত' দল হিসেবে আখ্যা দেন এবং দাবি করেন, অন্য দলগুলো স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধা পেলেও ইরানকে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে দলটি টুর্নামেন্টজুড়ে কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে। এই নিষেধাজ্ঞা তাদের প্রস্তুতি ও মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে।



