ফিফা বিশ্বকাপে রাজনীতির ছায়া, ট্রাম্পকে ঘিরে বিতর্ক
ফিফা বিশ্বকাপে রাজনীতির ছায়া, ট্রাম্পকে ঘিরে বিতর্ক

ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বের নানা প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীদের মিলনমেলায় উৎসবের আবহ তৈরি হলেও, এর আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি আয়োজক দেশের নীতিগত সিদ্ধান্তও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

বিশ্বকাপে ইতিবাচক বার্তা ও সমালোচিত সিদ্ধান্ত

বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। স্কটল্যান্ডের সমর্থকদের উৎসব, জাপানি দর্শকদের স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার সংস্কৃতি কিংবা ইউরোপীয় পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কয়েকটি সিদ্ধান্ত সমালোচনার জন্ম দেয়।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে ছিল সোমালিয়ার এক রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং ইরানের ফুটবলারদের ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ। পাশাপাশি একটি লাল কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে মার্কিন দলের একজন খেলোয়াড়কে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জনগণ ও সরকারের মধ্যে পার্থক্য

পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ ও সরকারের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেছে। অনেকের মতে, আমেরিকান জনগণের আতিথেয়তা ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজের চিত্র একদিকে থাকলেও, সরকারি নীতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং পর্যটন—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রতিবেশী দেশগুলো বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেছে। তবে এ প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের প্রতি বিরূপ মনোভাব নয়; বরং সরকারের নীতির প্রতি অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ।

আস্থার সংকট ও গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ

বিভিন্ন জনমত জরিপেও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যেই দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে আস্থা কমছে। তরুণদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ‘আমেরিকান ড্রিম’ আগের মতো বাস্তব নয়। জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও মানুষের বিশ্বাস কমে এসেছে, যা রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাহী ক্ষমতার বিস্তার, নির্বাচনি ব্যবস্থাকে ঘিরে বিতর্ক এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক দেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নীতি এবং দেশটির জনগণকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করছে।

প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে প্রভাব

প্রযুক্তি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ইউরোপ ও কানাডার অনেক নীতিনির্ধারক মনে করছেন, মার্কিন আইন ও সরকারি নীতির আওতায় পরিচালিত প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবার ওপর অতিনির্ভরতা ভবিষ্যতে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এসব ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগও জোরদার হয়েছে।

দ্বৈত বাস্তবতা ও ভাবমূর্তির সংকট

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বিশ্বের অনেক মানুষের কাছে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর একক পরিচয়ের রাষ্ট্র নয়। বরং একদিকে রয়েছে বহুত্ববাদে বিশ্বাসী সাধারণ নাগরিক, অন্যদিকে রয়েছে বিতর্কিত সরকারি নীতি। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনেও সেই দ্বৈত বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তাদের মতে, মাঠের খেলায় যুক্তরাষ্ট্রের পারফরম্যান্স যতই প্রশংসিত হোক না কেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্ত দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর একটি প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। ফলে কেবল ফুটবল নয়, কূটনীতি ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে আস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।