বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন হেড কোচ কে হবেন—এ নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে আগ্রহ ও উত্তেজনা তুঙ্গে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্রীড়া পাতাগুলোতে বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল আগেই জানিয়েছিলেন, রবিবারের মধ্যে হেড কোচ চূড়ান্ত করা হবে এবং ১৫ মে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে জানা গেছে, আজ নয়—১৫ মেতেই হেড কোচ চূড়ান্ত ও চুক্তি সম্পন্ন হবে।
আগে ধারণা করা হচ্ছিল আজই নতুন কোচের নাম ঘোষণা করা হবে। কিন্তু বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘না, আজকে কোচের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে না। আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। ১৫ মে পর্যন্ত আলোচনা চলবে। এরপর সবকিছু ঠিক হবে।’
হাইপ্রোফাইল কোচদের তালিকা
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় দলের কোচ হওয়ার দৌড়ে একাধিক হাইপ্রোফাইল কোচ আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান। গ্যারেথ বেলদের মতো তারকাদের সামলানো ৫৫ বছর বয়সী কোলম্যান খেলোয়াড় হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলেছেন। কোচিং ক্যারিয়ারে তিনি রিয়াল সোসিয়েদাদ, সান্ডারল্যান্ড ও ফুলহামের মতো ক্লাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সবচেয়ে বড় অর্জন ২০১৬ ইউরোতে ওয়েলসকে ৫৮ বছর পর প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টে নিয়ে যাওয়া এবং সেমিফাইনালে পৌঁছে দেওয়া। তার অধীনে ওয়েলস ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১১৭ থেকে ৮ নম্বরেও উঠে আসে।
তার পাশাপাশি আলোচনায় আছেন জার্মান কোচ বার্নড স্টর্ক। ৬৩ বছর বয়সী এই কোচ বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে খেলেছেন এবং কোচিং স্টাফেও ছিলেন। তিনি হাঙ্গেরি ও কাজাখস্তানের জাতীয় দলের দায়িত্বেও ছিলেন। এছাড়া ২০১৬ রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে স্বর্ণ জেতানো কোচ রোজেরিও মিকেলের নামও তালিকায় ছিল। নেইমারের বাংলাদেশি বন্ধু রবিন মিয়ার মাধ্যমে তিনি আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই সরে দাঁড়ান। বর্তমানে তিনি ব্রাজিলের দ্বিতীয় বিভাগের লন্ড্রিনা এসপোর্ত ক্লাবে দায়িত্বে আছেন। তালিকায় একজন পর্তুগিজ কোচও রয়েছেন।
ক্রিস কোলম্যান এগিয়ে
তবে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ক্রিস কোলম্যানই সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। বাফুফে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সভাপতির ঘোষণা অনুযায়ী ১৫ মেতেই সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
হাইপ্রোফাইল কোচরা সাধারণত নিজেদের কোচিং স্টাফ নিয়ে আসেন। সে বিষয়েও আলোচনা চলছে। পাশাপাশি তাদের বেতন, সুবিধা, মাঠ ও অবকাঠামোসহ জাতীয় দল পরিচালনার সার্বিক পরিবেশ নিয়েও শর্ত ও আলোচনা চলছে।
টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম হিলটন বলেছেন, ‘শুধু হেড কোচ নয়, তার সঙ্গে আসা কোচিং স্টাফ ও সুবিধাগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। তারা কী চায়, আমরা কতটা দিতে পারি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। নইলে হাইপ্রোফাইল কোচরা কেন আসবেন? তারা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবেন।’
তিনি আরও জানান, হেড কোচ ও সহকারী কোচসহ পুরো স্টাফের জন্য মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। তবে বাফুফে এখন সেই ব্যয় বহনে প্রস্তুত। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতাও আশা করা হচ্ছে। হিলটনের ভাষায়, ‘আমরা চাই ভালো কোচের অধীনে দেশের ফুটবল এগিয়ে যাক।’



