কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজা ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ
কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজা ফুটবল উদ্বোধনে অবরুদ্ধ

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে গিয়ে হট্টগোলের মুখে পড়েন কুষ্টিয়া ৩-আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ সময় তাকে আধা ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে। বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ নিয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অ্যাডমিনের দেওয়া পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মী।’ তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কলেজের খেলার মাঠ বাদ রেখে আন্তঃবিভাগীয় (কলেজের নিজস্ব বিভাগের মধ্যে) ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্যান্ডেল তৈরির জন্য গত ৪ মে রাতের আঁধারে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ২০টির মতো গাছ কেটে ফেলা হয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা মিলে তাদের নিজ হাতে লাগিয়েছিলেন গাছগুলো। এমনকি শিক্ষকরা নিজেরাই পালা করে নিয়মিত গাছগুলোর পরিচর্যা করে আসছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাতের আঁধারে এসব গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন কলেজের ওসব শিক্ষক-শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার সকালে কলেজে এসে গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষকরা তাৎক্ষণিকভাবে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিতকরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত আবেদন করেন তারা। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে এমপি আসার খবরে সেখানে গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করেন একদল শিক্ষার্থী। এতে ছাত্রদল সমর্থিত শিক্ষার্থীরাও ছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে সরকারি কলেজ মাঠে আন্তঃবিভাগ মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে যান এমপি আমির হামজা। এ সময় মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী মঞ্চের সামনে জড়ো হয়ে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন। পরে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের জন্য মাঠে প্রবেশ করলে ওই শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েও আমির হামজাকে ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তারা মাঠের মধ্যে বসে পড়েন।

পরে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোল্লা মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত এমনকি আমির হামজা যখন প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন, সেসময়ও শিক্ষার্থীরা জোরে জোরে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যের একপর্যায়ে এমপি আমির হামজা বলেন, ‘আমি আনন্দও পেয়েছি আবার একটু দুঃখও পেয়েছি। কারণ এখানে গাছ কাটার যে বিষয়টা শুনলাম, আমাদের শিক্ষক পরিষদের শ্রদ্ধাভাজন স্যার যিনি বলছিলেন, আসলে গাছ কে বা কারা কেটেছে এটা তদন্তের মাধ্যমে বের করেন। কিন্তু বাকি যেগুলো হচ্ছে, এগুলোকেও তদন্ত করা দরকার। বাকি যারা যা করছেন মনে করছেন, আমি লেবাস পরে আছি। মনে করছেন আমি হুজুর, আমি হুজুর। আমি হুজুর না। আমি এগুলোর তালিকা নিয়ে যাবো আজ। গিয়ে আপনাদের যা করা লাগে আমি তাই করবো।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের যে কয়জনের তালিকা আমার কাছে আছে অলরেডি, এরা এই শিক্ষা ভবনটা নষ্ট করার জন্য। এর পেছনে কারা আছে আমি তাও জানি। আমি তাদের নামও দেবো, নালিশ একেবারে ওপরে। দেখি আপনারা কতদূর পারেন।’

প্রায় ৬ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড বক্তব্য রাখেন তিনি। ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণার পর কলেজের অধ্যক্ষ আমির হামজাকে নিয়ে তার কার্যালয়ে চলে যান। শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে গিয়েও একইভাবে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। এ সময় কলাপসিবল গেট আটকিয়ে বাইরে পুলিশ অবস্থান নেয়। কিছু সময় পরে এমপি আমির হামজা পুলিশের সহযোগিতায় অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে বের হন এবং কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

মানববন্ধন করা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

মানববন্ধনে দাঁড়ানো কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপকালে তারা অভিযোগ করেন, কলেজ অধ্যক্ষের নির্দেশেই বড় খেলার মাঠ থাকা সত্ত্বেও রাতের আঁধারে গাছ কাটা হয়েছে। এমনকি শিক্ষক কাউন্সিলের কোনও মিটিং ছাড়াই তিনি একক সিদ্ধান্তে গাছগুলো কেটেছেন।

এমপিকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেওয়ার কারণ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা বলেন, তিনি (এমপি আমির হামজা) গাছ কাটার বিচার না করে কীভাবে খেলার উদ্বোধন করতে এলেন? তাই আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি।

যা বললেন এমপি আমির হামজা

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি আমির হামজা বলেন, ‘এমন কিছু না। সেখানে খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। সামান্য হট্টগোল হয়েছিল। আমি নিরাপদে বের হয়ে গেছি।’

কী নিয়ে এমন হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কলেজের গাছ কাটা নিয়ে কিছু শিক্ষার্থী মানববন্ধন শেষে কলেজের প্রিন্সিপাল, ভাইস-প্রিন্সিপালদের সঙ্গে ঝামেলা করেছিল। আমি বলেছি, খেলা চলাকালীন এসব ঝামেলার দরকার নেই। এগুলো তদন্তের মাধ্যমে বের করে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

অবরুদ্ধ রাখার বিষয়টি দেখেনি পুলিশ

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘হট্টগোলের খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যাই। এ সময় এমপি আমির হামজাকে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলাপ করতে দেখি। তবে তাকে অবরুদ্ধ রাখার বিষয়টি পুলিশ গিয়ে দেখেনি। এমনকি এমপিও আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনও অভিযোগ করেননি। অনুষ্ঠান শেষে এমপিকে অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে সঙ্গে নিয়েই আমরা বেরিয়ে আসি এবং কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করে চলে আসি।’

ছাত্রদল বলছে অবরুদ্ধ করা হয়নি

কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শিমুল হোসেন বলেন, ‘গাছ কাটার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে যোগ দিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু অনুষ্ঠানে এমপি মানববন্ধনকারীদের তালিকা তৈরি করার কথা বলায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এমপিকে অবরুদ্ধ করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা গাছ কাটার প্রতিবাদ জানিয়ে চলে যায়।’

ছাত্রশিবির বলছে পূর্বপরিকল্পনা করে বাধা সৃষ্টি

কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি ওয়াসকরুনী ফারাবি বলেন, ‘এমপির আগমন ঠেকাতে পূর্বপরিকল্পনা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল একটি পক্ষ। এতে ছাত্রদলের নেতাদেরও মদত ছিল। তারাও তাতে অংশ নেয়।’