টিকিট ছাড়া ফুটবল মাঠে ঢোকায় প্রথমবারের মতো তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা
টিকিট ছাড়া ফুটবল মাঠে ঢোকায় প্রথমবার তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা

২২ মার্চ আর্সেনাল–ম্যানচেস্টার সিটি লিগ কাপ ফাইনালে দর্শকের একাংশ পছন্দের দলের খেলার কিংবা বড় ম্যাচগুলোতে টিকিট না পেয়ে গ্যালারিতে জোর করে বা অপকৌশল করে ঢোকার চেষ্টা ফুটবলে নতুন কিছু নয়। এবার এমন এক ঘটনায় কঠোর সাজা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের একটি আদালত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, টেইলগেটিং বা টিকিট ছাড়া অবৈধভাবে ফুটবল মাঠে প্রবেশের দায়ে দেশটিতে প্রথমবারের মতো এক দর্শককে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ জরিমানাও করেছেন আদালত।

কী ঘটেছিল

গত ২২ মার্চ লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে লিগ কাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয় ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনাল। ইংল্যান্ডের দুই শীর্ষস্থানীয় ক্লাবের শিরোপা–লড়াই দেখতে দর্শকের আগ্রহ ছিল আকাশচুম্বী। ওল্ডহ্যামের ২৭ বছর বয়সী যুবক বেঞ্জামিন বেইলি টিকিট না পেয়ে কৌশলে স্টেডিয়ামে ঢোকার চেষ্টা চালান। গেটে দায়িত্বরত কর্মীদের ফাঁকি দিয়ে ভেতরে ঢুকেও পড়েন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। গত শুক্রবার উইলেসডেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বেইলি অপরাধ স্বীকার করে নেন। আদালত তাঁকে তিন বছরের জন্য ফুটবল মাঠ থেকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ২৩০ পাউন্ড জরিমানা করার আদেশ দেন। এ রায় টেইলগেটিংয়ের দায়ে প্রথম সাজা বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম।

টেইলগেটিং আসলে কী

বিশ্বের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে প্রবেশের জন্য ‘টার্নস্টাইল’ বা স্বয়ংক্রিয় গেট থাকে। একজন টিকিট পাঞ্চ করলে গেটটি খুলে যায় এবং একজনই ঢুকতে পারেন। কিন্তু যাঁদের কাছে টিকিট নেই, কিন্তু যেকোনোভাবে মাঠে ঢুকতে মরিয়া, তাঁরা এক অপকৌশলের আশ্রয় নেন। যখন কোনো বৈধ টিকিটধারী টার্নস্টাইলের দিকে এগিয়ে যান, ঠিক তাঁর পেছনে শরীরের সঙ্গে গা ঘেঁষে বা খুব দ্রুতগতিতে গেট অতিক্রম করেন ওই টিকিটবিহীন ব্যক্তি, এটিকে বলা হয় ‘টেইলগেটিং’। এটি অনেকটা একজনের টিকিটে কৌশলে আরেকজন ঢুকে পড়ার মতো বিষয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কেন এই কঠোর আইন

আগে টিকিট ছাড়া মাঠে প্রবেশের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো কঠিন ফৌজদারি আইন ছিল না। সাধারণত ধরা পড়লে ওই দর্শককে স্টেডিয়াম থেকে বের করে দেওয়া হতো। কিন্তু ২০২১ সালে ইউরো ফাইনালের পর এ নিয়ে কঠোর আইনের আলোচনা ওঠে। সেবার ইংল্যান্ড-ইতালির ফাইনাল দেখতে হাজারের বেশি টিকিটবিহীন সমর্থক নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ঢুকে পড়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে ব্যারনেস লুইস কেসির এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেই বিশৃঙ্খলায় মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত। সেখানে প্রায় ২ হাজার মানুষ অবৈধভাবে ঢুকেছিলেন এবং প্রতিবন্ধীদের প্রবেশপথ ও জরুরি বহির্গমন গেটগুলোতে ১৭ বার গণ-অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। এরপরই ব্রিটিশ সরকার ‘আনঅথরাইজড এন্ট্রি টু ফুটবল ম্যাচেস অ্যাক্ট’ বা অননুমোদিত প্রবেশ আইন পাস করে।

ইউরোয় পরীক্ষা

ব্রিটিশ পুলিশের মতে, আগে এসব ক্ষেত্রে শুধু ‘জালিয়াতির’ মামলা দেওয়া যেত, যা প্রমাণ করা ছিল কঠিন। কিন্তু নতুন আইনের অধীনে এখন অপরাধীদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা এবং এক হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান আছে।

আগামী ১৬ মের চেলসি-ম্যানচেস্টার সিটি এফএ কাপ ফাইনাল এবং ২০২৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে এই আইন খুব কার্যকর হবে মনে করছে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের ডিরেক্টর মার্ক লিঞ্চের মতে, এই টেইলগেটিংয়ের ফলে একদিকে যেমন মাঠের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে, তেমনি প্রকৃত টিকিটধারী দর্শকেরাও ভিড়ের কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।

বেইলির নিষেধাজ্ঞার পর টেইলগেটিং কতটা কমে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।