বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়: পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারালো
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়: পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারালো

বাংলাদেশ মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানের এক নাটকীয় জয় উপহার দিয়েছে। পঞ্চম দিনের শেষ সেশনে এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ টানা তৃতীয়বারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের রেকর্ড গড়েছে।

ম্যাচের সারসংক্ষেপ

২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৫২.৫ ওভারে ১৬৩ রানে অলআউট হয়। অভিষিক্ত আবদুল্লাহ ফাজাল প্রথম দিকে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ সেশনে তরুণ পেসার নাহিদ রানার আগুনে বোলিংয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়ে। নাহিদ রানা ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

চা-বিরতির সময় পাকিস্তানের স্কোর ছিল ১১৬ রানে ৩ উইকেট। ফাজাল ৬৬ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং সালমান আগা তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন। বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা তখন ক্ষীণ হয়ে আসছিল। কিন্তু চা-বিরতির পরই তাজুল ইসলামের বলে ফাজাল এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলে ধস নামে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে। সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও নাহিদ রানার পেস ও আগ্রাসনের সামনে টিকতে পারেননি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নাহিদ রানার ম্যাচ জয়ানো স্পেল

নাহিদ রানা পরপর দুই ওভারে সেট ব্যাটার সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে আউট করে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে দেন। শেষ উইকেট হিসেবে শাহিন শাহ আফ্রিদি তার শর্ট বলটি গ্লাভস করে শর্ট লেগে ক্যাচ দিলে বাংলাদেশ শিবিরে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। দলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যের এই পাঁচ উইকেট বাংলাদেশের আধিপত্যকে আরও স্পষ্ট করে।

শান্তর অলরাউন্ড নৈপুণ্য

বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এই জয়ের ভিত গড়ে দেন। প্রথম ইনিংসে ১০১ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ৮৭ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০ রানে ৯ উইকেটে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তানকে ৭৬ ওভারের লক্ষ্য দেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ রান তোলে, যেখানে শান্ত, মমিনুল হক (৯১) ও মুশফিকুর রহিমের (৭১) গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। জবাবে পাকিস্তান ৩৮৬ রান করে, যেখানে আজান আওয়াইস অভিষেক সেঞ্চুরি করেন। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ২৭ রানের লিড এনে দেন।

পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের বোলাররা দারুণ সমন্বয় দেখায়। তাসকিন আহমেদ ও তাজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু দেন এবং শেষ পর্যন্ত নাহিদ রানার ম্যাচ জয়ানো স্পেল পাকিস্তানের স্বপ্ন ভঙ্গ করে।

ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন নাজমুল হোসেন শান্ত, যিনি দুই ইনিংসে ১০১ ও ৮৭ রানের অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেন। মিরপুরে এই কঠিন জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।