বিপিএলে ফিক্সিং ও জুয়ার অভিযোগে চারজন সাময়িক নিষিদ্ধ
বিপিএলে ফিক্সিং জুয়া: চারজন নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ২০২৫ আসরে ফিক্সিং ও জুয়ার অভিযোগে অবশেষে বড় ধরনের শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবি ইনটেগ্রিটি ইউনিটের (বিসিবিআইইউ) ৯০০ পৃষ্ঠার দীর্ঘ তদন্ত রিপোর্টে দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় একজন ক্রিকেটার, দুইজন টিম ম্যানেজার এবং একজন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিককে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ও অপরাধের ধরন

বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা আইসিসি দুর্নীতি বিরোধী বিধিমালার বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে মূলত জুয়ায় সম্পৃক্ততা, দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া এবং তদন্ত কাজে অসহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে:

  • অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার): ম্যাচের ফলাফল বা পরিস্থিতির ওপর বাজি ধরা বা বাজি গ্রহণের (অনুচ্ছেদ ২.২.১) দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন এই ক্রিকেটার।
  • মো. লাবলুর রহমান (টিম ম্যানেজার): তদন্তে ড্যাকোকে (ডিএসিসিও) সহযোগিতা না করা এবং তথ্য বা যোগাযোগের প্রমাণ মুছে ফেলে তদন্তে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
  • রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার): ম্যাচের ওপর বাজি ধরা বা বাজিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
  • মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ (ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক): তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানো এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধ্বংস বা গোপন করার দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সাময়িক স্থগিতাদেশ ও পরবর্তী পদক্ষেপ

অভিযুক্ত এই চার ব্যক্তিকে বর্তমানে সব ধরণের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা অভিযোগের জবাব দেবেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামিনুর রহমানের ওপর স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ

বিপিএলের আগের তিনটি আসরে (৯ম, ১০ম ও ১১তম) দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার দায়ে সামিনুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’র অধীনে বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে খেলোয়াড়দের দুর্নীতির প্রস্তাব দিতেন। অভিযুক্ত সামিনুর রহমান তার দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন।

বিসিবি জানিয়েছে, ক্রিকেটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দুর্নীতির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিসিবি এ বিষয়ে আর কোনও মন্তব্য করবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।