ইউল্যাবে নববর্ষ উৎসব ‘কসমোলজিস অব কনফ্লুয়েন্স’: বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মিলনমেলা
ইউল্যাবে নববর্ষ উৎসব: বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মিলনমেলা

ইউল্যাবে নববর্ষ উৎসব ‘কসমোলজিস অব কনফ্লুয়েন্স’: বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মিলনমেলা

বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ও আলোচনা অনুষ্ঠান ‘কসমোলজিস অব কনফ্লুয়েন্স’ আয়োজিত হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) তারিখে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রতিমন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের অংশগ্রহণে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ নানা অঞ্চলের নববর্ষের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য একত্রে উপস্থাপন করা হয়। দিনজুড়ে বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা এবং অংশগ্রহণমূলক নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে উৎসবটি সজীব হয়ে ওঠে।

প্রতিমন্ত্রী ও উপাচার্যের বক্তব্য

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের আয়োজন শুধু সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরে না, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতি জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদ্বোধনী পর্বে ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক সামসাদ মর্তূজা স্বাগত বক্তব্যে বলেন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে এমন উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করবে। অনুষ্ঠানের পটভূমি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন অধ্যাপক ড. কায়সার হামিদুল হক। পরে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক জুড উইলিয়াম হেনিলো।

আন্তঃসাংস্কৃতিক সংযোগের গুরুত্ব

মূল আলোচনা অধিবেশনে নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারীসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন। তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন আন্তঃসাংস্কৃতিক সংযোগকে আরও দৃঢ় করে এবং বৈশ্বিক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও লেখক মৌসুমী ভৌমিক, যিনি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও কার্যক্রম

দিনব্যাপী উৎসবে ইউল্যাবের শিক্ষার্থীরা মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন, যা উৎসবের প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে তোলে। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলারও, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে। ‘সীমানা পেরিয়ে পঞ্জিকা ও উৎসব’ শীর্ষক সমাপনী আলোচনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে, যা নববর্ষের তাৎপর্য ও বৈচিত্র্য নিয়ে গভীর আলোচনা উপস্থাপন করে।

বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতি

উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ, চাকমা সার্কেলের প্রধান রাজা দেবাশীষ রায়, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা এবং গবেষক ও লেখক পাভেল পার্থ। তাদের উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও সমৃদ্ধ করে এবং বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের পারস্পরিক সংযোগকে নতুনভাবে তুলে ধরে। এই উৎসবটি শুধু নববর্ষ উদযাপনই নয়, বরং বৈশ্বিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছে।