ঢাবিতে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা: নববর্ষের ঐকতানে মাতল রাজধানী
ঢাবিতে বৈশাখী শোভাযাত্রা: নববর্ষের ঐকতানে মাতল রাজধানী

ঢাবিতে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা: নববর্ষের ঐকতানে মাতল রাজধানী

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর প্রাক্কালে রাজধানী ঢাকায় উৎসবের আমেজে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে। 'নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান' এই শক্তিশালী প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) বর্ণাঢ্য 'বৈশাখী শোভাযাত্রা' অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজারো মানুষ সমবেত হয়ে আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানিয়েছে, যা রাজধানীর সাংস্কৃতিক জীবনে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় সংযোজন করেছে।

শোভাযাত্রার সময় ও স্থান

সকাল ৯টা ৫ মিনিটে চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে এই জমকালো শোভাযাত্রাটি যাত্রা শুরু করে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শোভাযাত্রার শুভ সূচনা করেন, যা সরকারি পর্যায়ে এই সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রতি সমর্থন ও গুরুত্বকে তুলে ধরে।

শোভাযাত্রার রুট ও গতিপথ

শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের উত্তর গেট থেকে যাত্রা শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ঘুরে আসে। এরপর এটি রাজু ভাস্কর্য, টিএসসি, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে ঘুরে আবার চারুকলায় এসে সমাপ্ত হয়। এই গতিপথ শোভাযাত্রাকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর সাথে সংযুক্ত করেছে, যা দর্শকদের জন্য একটি ব্যাপক দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শোভাযাত্রার আকর্ষণীয় দিকসমূহ

এবারের শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ছিল পাঁচটি বড় মোটিফ, যা বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে প্রতিফলিত করে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • মোরগ
  • বেহালা
  • পায়রা
  • হাতি
  • ঘোড়া

এছাড়া, ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পী জাতীয় সংগীত, 'এসো হে বৈশাখ' সহ বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে শোভাযাত্রাকে সুরেলা ও প্রাণবন্ত করে তোলে। শোভাযাত্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা বহন করেন, যা দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের একটি শক্তিশালী প্রকাশ হিসেবে কাজ করে।

অংশগ্রহণকারীদের বিশাল সমাবেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে একত্রিত হন। এই বিশাল অংশগ্রহণ নববর্ষের উৎসবকে একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত করেছে, যা গণতন্ত্রের পুনরুত্থানের প্রতিপাদ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। শোভাযাত্রাটি শুধুমাত্র একটি আনন্দ অনুষ্ঠানই নয়, বরং এটি বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।

এই আয়োজনের মাধ্যমে রাজধানীবাসী একসাথে মিলে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে এবং বাংলা সংস্কৃতির গৌরবময় ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বৈশাখী শোভাযাত্রা প্রতিবছরের মতো এবারও হয়ে উঠেছে জাতীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি জীবন্ত প্রতীক।