বাংলা নববর্ষে ঐতিহ্য রক্ষায় মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন, নতুন প্রজন্মের কাছে সংস্কৃতি তুলে ধরার আহ্বান
বাংলা নববর্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা, নতুন প্রজন্মের কাছে সংস্কৃতি

বাংলা নববর্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ

চিরায়ত সংস্কৃতি ও নিজস্ব ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ‘মঙ্গল’ নাম বজায় রেখেই শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বলে জানিয়েছে ‘বর্ষবরণ পর্ষদ’। মঙ্গলবার, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিনে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় এই উৎসব উদযাপিত হবে। ‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে সকাল ৯টায় ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের হবে। এতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে, এবং শোভাযাত্রা পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

আয়োজকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও সংস্কৃতি রক্ষার আহ্বান

আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য ও তক্ষশীলা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নাদিমুল ইসলাম বলেন, “দেশের সৃজনশীল এবং প্রগতিশীল কিছু ব্যক্তি যারা বাঙালি সংস্কৃতিকে ধারণ করতে চায় তারাই মূলত এই আয়োজন করছে।” তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের মধ্যে ইদানিং ইউরোপ আমেরিকার অনুকরণ করে বিকট শব্দ করে আতশবাজি ফুটিয়ে পাখি হত্যা করে তাদের বর্ষবরণ উদযাপন করার প্রবণতা দেখা যায়। অপরদিকে আরবদের সংস্কৃতি হলো সন্ধ্যাবেলা চাঁদ দেখে নতুন বছর শুরু করা।”

নাদিমুল ইসলাম আরও জানান, বাঙালি সংস্কৃতি হলো সকালে বর্ষবরণ করা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি উদযাপনের রীতি হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। তাই নতুন প্রজন্মকে জানাতে সকল ত্রুটি বিচ্যুতি বাদ দিয়ে এই আয়োজন করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মঙ্গল শোভাযাত্রার ঐতিহাসিক পটভূমি ও নাম পরিবর্তনের ইতিহাস

উল্লেখ্য, বাংলা নববর্ষের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই বর্ণাঢ্য মিছিলটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের (বর্তমানে অনুষদ) উদ্যোগে। তৎকালীন সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের আবহে লোকজ ঐতিহ্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে এই আয়োজন শুরু হয়। সাড়ে তিন দশকের পথচলায় এই উৎসবটির নাম কয়েকবার পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৮৯ সালে শুরুর বছর এর নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। অমঙ্গল দূর করে মঙ্গলের আহ্বানে ১৯৯০ সালে এর নাম রাখা হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। এই নামেই এটি দীর্ঘ সময় বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলন পরবর্তী প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর নাম পরিবর্তন করে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করে। এক বছরের মাথায় সরকার বর্তমান বছরে এর নতুন নাম নির্ধারণ করেছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও গুরুত্ব

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো এই আয়োজনকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ (অপরিমেয় বিশ্ব সংস্কৃতি) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এই স্বীকৃতি মঙ্গল শোভাযাত্রার বৈশ্বিক গুরুত্ব ও সাংস্কৃতিক মূল্যকে আরও জোরদার করেছে।

এই আয়োজন শুধু একটি উৎসব নয়, বরং বাঙালি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা দেওয়ার একটি মাধ্যম। আয়োজকরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণরা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হবে এবং ভবিষ্যতে তা সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে।