রাঙ্গামাটিতে শুরু হলো আদিবাসী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব
রাঙ্গামাটিতে শুরু হলো আদিবাসী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম উৎসব

রাঙ্গামাটিতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম উৎসবের সূচনা

রাঙ্গামাটির আদিবাসী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব রবিবার থেকে শুরু হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উৎসবের সূচনা ঘটে। পুরো শহর এখন বিজু, সংগ্রাই, বাইশুক, বিসু, বিহু, চাংক্রান, চাংলান ও পাটা উৎসবের বর্ণিল আয়োজনে মুখরিত হয়ে উঠেছে, যা অঞ্চলজুড়ে মৌসুমি উৎসবের আনন্দময় সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা

ভোরবেলা থেকেই জেলার বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীর মানুষরা শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে জলাশয়ে ফুল ভাসানোর রীতি পালনে অংশ নেন। সকাল সাতটায় চাকমা সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিজু, সংগ্রাই ও বাইশুক উদযাপন কমিটির উদ্যোগে শহরের রাজবন বিহার ঘাটে ফুল ভাসান। প্রায় আটটার দিকে ত্রিপুরা সম্প্রদায় গর্জনতলী এলাকায় একই আচার পালনের মধ্য দিয়ে তাদের বাইশুক উৎসবের সূচনা করে।

উৎসবে অংশগ্রহণ ও বক্তব্য

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সাগরিকা রোয়াজা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিমসহ অনেকে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সাগরিকা রোয়াজা বলেন, এই উৎসব চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা ও আহামিয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে একতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, "আজ 'হরি বাইশুক' দিন, যখন সকলের মঙ্গল কামনায় মা গঙ্গার উদ্দেশ্যে ফুল ভাসানো হয়।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন, শতাব্দী প্রাচীন এই উৎসব সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে এবং সমষ্টিগত কল্যাণের জন্য একসাথে কাজ করতে মানুষকে উৎসাহিত করে।

বাইশুক উৎসবের তিন দিনব্যাপী আয়োজন

বাইশুক উৎসব তিন দিনব্যাপী পালিত হয়—চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন ও বৈশাখ মাসের প্রথম দিন। প্রথম দিন 'হরি বাইশুক'-এ ফুল ভাসানো হয়; দ্বিতীয় দিন 'বাইসুমা' মূল উৎসব হিসেবে পালিত হয়; এবং তৃতীয় দিন 'বিসিকাতাল' নববর্ষের সূচনা করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঐতিহ্যবাহী পোশাক, আচার-অনুষ্ঠান, পিঠা ও অন্যান্য খাবার এই উৎসবের কেন্দ্রীয় বিষয়, যেখানে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ ঐতিহ্যকে জীবন্ত রাখতে সাহায্য করছে।

উৎসবে পর্যটকদের সমাগম

পর্যটকরাও রাঙ্গামাটিতে এই অনুষ্ঠান উপভোগ করতে ভিড় জমিয়েছেন। সোমবার মূল অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে, যেখানে সম্প্রদায় পরিদর্শন, পঞ্চান মতো ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে। এই উৎসব অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।