পহেলা বৈশাখে ঢাবির চারুকলায় লোকজ সংস্কৃতি ও পপ কালচারের মেলবন্ধন
ঢাবির চারুকলায় পহেলা বৈশাখ প্রস্তুতি: লোকজ ও পপ কালচার

পহেলা বৈশাখের প্রস্তুতিতে মেতে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ

বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানাতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। শিক্ষার্থীরা রঙিন মুখোশ বানানো থেকে শুরু করে মাটির সরা রাঙানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। সোমবার বিকালে চারুকলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম তৈরি করছে। সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সহায়তা করছেন।

লোকজ শিল্পের পাশাপাশি এবার পপ কালচারের প্রভাব

সাধারণত বাংলা নববর্ষের উৎসব ও মঙ্গল শোভাযাত্রায় দেশীয় সংস্কৃতি, লোকশিল্প এবং প্রকৃতির নানা মোটিফ ফুটিয়ে তোলা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • মাটির তৈরি হাতি, ঘোড়া, পেঁচা ও টেপা পুতুল
  • বাঘের মুখোশ, শান্তির পায়রা, মাছ ও বক
  • টমটম গাড়ি, দোতারা ও রিকশার আর্ট
  • উজ্জ্বল রঙের নানা ধরনের আলপনা

কিন্তু এবার দেশীয় সংস্কৃতির পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে পপ কালচার ও অ্যানিমেশনের বিভিন্ন চরিত্র। প্রতিবছরই শিক্ষার্থীরা কাগজ বা মাটির সরায় লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় ফুটিয়ে তুলে তা দর্শনার্থীদের কাছে বিক্রি করে থাকে। সেই অর্থ দিয়ে নববর্ষ উদযাপনের বিভিন্ন সামগ্রী কিনে শিক্ষার্থীরা। তবে, এবার মাটির সরাগুলোতে লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন চিত্রের পাশাপাশি পপ কালচার এবং জাপানিজ অ্যানিমেশনের বিভিন্ন চরিত্র আঁকা হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্পাইডারম্যান থেকে ডোরেমন: আধুনিকতার ছোঁয়া

চারুকলা প্রাঙ্গণ ঘুরে বিভিন্ন মাটির সরায় বহুল পরিচিত স্পাইডারম্যান, ডোরেমন, শিননোসুকে নোহারা বা শিন চ্যান এবং তোরু কাযামা’র মত চরিত্রগুলোকে দেখা যায়। এর পিছনে বিশেষ কোনও কারণ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রিন্টমেকিং বিভাগের শিক্ষার্থী সৌমিক ঘোষ বলেন, “এইটা কোনও স্পেসিফিক থিম ধরে করা হয়েছে এমন নয়। যার মাথায় যেইটা এসেছে সে সেইটাই আঁকছে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী সাজেদুল হোসেন বলেন, “আমরা কেউই তো আসলে আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে বাইরে নই। এবারও তাই লোকজ সংস্কৃতি এবং পপ কালচারের মধ্যে একটা ফিউশন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” এই মেলবন্ধন শুধু শিল্পের দিক থেকেই নয়, বরং প্রজন্মের মধ্যকার সংযোগ তৈরি করতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

পহেলা বৈশাখের এই প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে চারুকলা অনুষদে সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ নববর্ষের উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। লোকজ ঐতিহ্য ও আধুনিক সংস্কৃতির এই সমন্বয় বাংলা নববর্ষের উৎসবকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলবে।