পয়লা বৈশাখের প্রস্তুতি: ঢাবি চারুকলায় শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ
পয়লা বৈশাখ প্রস্তুতি: ঢাবি চারুকলায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ

পয়লা বৈশাখের প্রস্তুতিতে মুখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ

দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটিকে বরণ করবেন বাঙালিরা। বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকালে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তৈরি হচ্ছে পাঁচটি বড় মোটিফ

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাঁচটি বড় মোটিফ বানানোর কাজ চলমান। যার মধ্যে রয়েছে হাতি, টেপা পুতুলের ঘোড়া, পায়রা, মোরগ এবং দোতারা। চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাই মূলত মোটিফগুলোর কাঠামো নির্মাণ করছিলেন। ঢাবির ভাস্কর্য বিভাগের সাজেদুল ইসলাম বলেন, "এবার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ গতবারের থেকে বেশি।" চারুকলা অনুষদের প্রিন্টমেকিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সৌমিক ঘোষ বলেন, "শিক্ষার্থীরা গতবার বিভিন্ন কারণে অংশ না নিলেও এবার নিচ্ছে।"

দেশজ সংস্কৃতির প্রতিফলন দেয়ালচিত্র ও শিল্পকর্মে

চারুকলা অনুষদের বাইরে দেখা যায়, প্রতিবছরের ন্যায় বিভিন্ন ধরনের দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে দেশজ সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তুলছে শিক্ষার্থীরা। চারুকলার ভেতরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা কাগজ ও মাটির সরার ওপর বিভিন্ন চিত্র অঙ্কন করে তা দর্শনার্থীদের কাছে বিক্রি করছে। এই শিল্পকর্মগুলো পয়লা বৈশাখের উৎসবকে আরও সমৃদ্ধ করছে এবং স্থানীয় সংস্কৃতির প্রচারে ভূমিকা রাখছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গতবারের তুলনায় এবার বেশি অংশগ্রহণ

গতবছর বাংলা নববর্ষ উদযাপনে বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রস্তুতির কাজে অংশ নেয়নি। এর মূলে ছিল, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ করা। তবে এবার শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও অংশগ্রহণ লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উৎসবের প্রাণবন্ততা বাড়াচ্ছে।

বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে শোভাযাত্রার গুরুত্ব

উল্লেখ্য, পহেলা বৈশাখের এই শোভাযাত্রা এখন কেবল উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। ইউনেসকো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিসরেও এর গুরুত্ব বেড়েছে। এই স্বীকৃতি শোভাযাত্রাকে গৌরবান্বিত করেছে এবং বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে।

দেশজুড়ে নববর্ষের নানা আয়োজন

নববর্ষকে ঘিরে দেশজুড়ে আয়োজন করা হবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরিবেশিত হবে পান্তা-ইলিশ ও পিঠাসহ ঐতিহ্যবাহী খাবার। জারি-সারি, ভাটিয়ালি ও বাউল গানের সুরে মুখর থাকবে গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই ছড়িয়ে পড়বে উৎসবের আনন্দ। এই আয়োজনগুলো বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।