পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন: 'বৈশাখী শোভাযাত্রা' ঘোষণা
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী রবিবার ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার নাম এখন থেকে 'বৈশাখী শোভাযাত্রা' হবে। আগে এটি আনন্দ শোভাযাত্রা বা মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে পরিচিত ছিল।
নামকরণ বিতর্কের সমাপ্তি
সচিবালয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি বিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, 'শোভাযাত্রার নাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছিল, আমরা এই বিতর্কের অবসান ঘটাতে চাই।' এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সমাজে বিভেদ না এনে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রদর্শন
মন্ত্রী জানান, শোভাযাত্রাটি যথাযথ মর্যাদার সাথে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দেশের সকল সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি প্রদর্শিত হবে। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও গারোসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে বৈশাখী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, পোশাক ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি নিয়ে এই শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন, যা দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটাবে।
নামকরণের পটভূমি
নিতাই রায় চৌধুরী শোভাযাত্রার নামকরণের ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, ১৯৮৯ সালে এরশাদ সরকারের সময় প্রথম আনন্দ শোভাযাত্রা নামে এই শোভাযাত্রার সূচনা হয়। পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে এর নাম পরিবর্তন করে মঙ্গল শোভাযাত্রা রাখা হয়। সম্প্রতি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবার আনন্দ শোভাযাত্রা নামে ফিরিয়ে আনে।
নাম নিয়ে বিভিন্ন মতপার্থক্যের কারণে সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, যা নিরপেক্ষ নামকরণের মাধ্যমে সমাধান করতে চায় সরকার। মন্ত্রী বলেন, 'আমরা সমাজে বিভেদ চাই না। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য চাই। গণতান্ত্রিক সমাজে মানুষের ভিন্ন মত ও আদর্শ থাকবে—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।'
ইউনেস্কো স্বীকৃতি প্রসঙ্গ
ইউনেস্কো স্বীকৃতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাটি পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে, শোভাযাত্রার নির্দিষ্ট কোনো নামকে নয়। তিনি বলেন, 'আমরা ইউনেস্কোকে জানাব যে শোভাযাত্রাটি এখন বৈশাখী শোভাযাত্রা নামে পরিচিত হবে। ইউনেস্কো বৈশাখ উৎসব ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে, কেবল শোভাযাত্রাকে নয়।'
মন্ত্রী আরও বলেন, 'আমরা সবকিছুতেই বৈশাখের প্রাধান্য দিতে চাই—বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, বৈশাখী উদযাপন—এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।' এই নামকরণের মাধ্যমে বাংলা মাস বৈশাখের চেতনাকে তুলে ধরা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



