চট্টগ্রামের কাট্টলীতে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতা দিবসে জনতার ঢল
চট্টগ্রামের কাট্টলীতে স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতা দিবসে জনতার ঢল

চট্টগ্রামের কাট্টলীতে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতা দিবসে জনতার ঢল

চট্টগ্রাম নগরের কাট্টলীর অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে মহান স্বাধীনতা দিবসে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই জনতার ঢল নামে। বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের আগেই এই স্মৃতিস্তম্ভের শান্ত প্রাঙ্গণ মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে গড়ে তোলা এই স্থাপনাটি শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে দূরে অবস্থিত হলেও জনসমাগমের প্রভাব এখানে কোনো অংশে কম ছিল না।

প্রতিমন্ত্রী ও মেয়রের শ্রদ্ধা নিবেদন

ভোরের আলোয় ফুল হাতে মহান একাত্তরের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে একে একে উপস্থিত হন জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। শুরুতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভূমি ও পার্বত্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ এবং রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ।

শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, 'স্বাধীনতা দিবসের প্রত্যয় হলো, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার ওপরে বাংলাদেশের স্বার্থ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা মানুষকে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মানুষের প্রকৃত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। এটাই আমাদের অঙ্গীকার।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, 'স্বাধীনতা অর্জন একটি বড় বিষয়, কিন্তু সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আরও বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নানামুখী উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বনির্ভর করে তোলার কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।'

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসমুদ্র

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল আরও বেড়ে যায়। সকাল গড়াতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় দেশাত্মবোধক স্লোগান ও গান প্রাঙ্গণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে, তৈরি হয় এক অনন্য উৎসবমুখর আবহ। বিশেষ করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি করে গভীর আবেগঘন পরিবেশ। তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে অনেকেই এগিয়ে আসেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সকালে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়, যাতে অংশ নেয় পুলিশ, কারারক্ষী, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, আনসার-ভিডিপির সদস্য ও বিএনসিসির সদস্যরা। আয়োজনের মধ্যে আরও রয়েছে:

  • বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা
  • মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী
  • চিত্র প্রদর্শনী
  • প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী

এছাড়াও, চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও সালাম গ্রহণ অনুষ্ঠানে শিশুদের শারীরিক কসরত প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যা সকাল ৯টায় শুরু হয়ে দিনব্যাপী চলতে থাকে। এই সমস্ত কর্মসূচি স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে, জনগণের মধ্যে দেশপ্রেমের জাগরণ সৃষ্টি করে।