কুড়িগ্রামের চিলমারীতে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমী স্নান মেলা
চিলমারীতে অষ্টমী স্নান মেলা শুরু, ব্যাপক প্রস্তুতি

চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমী স্নান মেলার প্রস্তুতি সম্পন্ন

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী অষ্টমী স্নান মেলা। এই ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় সাজ সাজ রব শুরু হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য নিয়ে চিলমারীতে সমবেত হচ্ছেন, যা মেলার প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করছে।

মেলার বিস্তারিত এলাকা ও পণ্যের সমাহার

উপজেলার রমনা ইউনিয়নে জোড়গাছ পুরাতন বাজার থেকে শুরু হয়ে উত্তরে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী রমনাঘাট পর্যন্ত বালুর ওপর তৈরি হয়েছে নানা রকম পণ্যের স্টল। এসব স্টলে মাটির তৈরি হাড়ি-পাতিল, থালা, বদনা সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পারিবারিক জিনিসপত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি, পুতুল, বাঘ, আম, নৌকা ইত্যাদি শোভা পাচ্ছে। এছাড়াও বাইস্কোপ, সার্কাস সহ নানান ধরনের খেলনার দোকান বসেছে, যা শিশু ও পরিবারবর্গের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়।

অষ্টমী তিথির সময়সূচি ও পুণ্যার্থীদের আগমন

রণপাগলী সার্বজনীন পূজা মন্দিরের পুরোহিত বুদ্ধদেব চক্রবর্তী জানান, স্নানের সময় অষ্টমী তিথি বুধবার বিকাল ৫টা ১৭ মিনিট ৫ সেকেন্ড পর হতে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫৮ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হবে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি কর্ণধর বর্মা উল্লেখ করেন, প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ছাড়াও ভারত, চীন সহ অন্যান্য দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীরা এই মেলায় অংশ নিতে আসবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এবারের অষ্টমী স্নানে পুণ্যার্থীর সমাগম আরও বেশি হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

অষ্টমীর স্নান মেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মিলন চন্দ্র বর্মণ জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আগত পুণ্যার্থীদের জন্য আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থাসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, সরকারিভাবে মেলা স্থলে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। মহিলাদের কাপড় বদলানোর জন্য সরকারি, বেসরকারি ও এনজিওদের সহায়তায় তাঁবু বানানো হয়েছে, যাতে পুণ্যার্থীরা নির্বিঘ্নে আসতে পারেন।

ওসি আলমগীর হোসেন নিরাপত্তা বিষয়ে জানান, অষ্টমী স্নান উৎসবে প্রায় দুই শতাধিক পুলিশ সদস্য অস্থায়ী ক্যাম্প সহ বিভিন্ন স্থানে ডিউটি পালন করবেন। এছাড়াও পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক এলাকাজুড়ে উপস্থিত থাকবেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টা মেলা সফল ও নিরাপদ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।