যশোরে বসুন্দিয়া স্কুলের শতবর্ষপূর্তি: প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা
জাতীয় সংগীতের সুরে ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের প্রথম দিন। গতকাল সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত এই দুই দিনব্যাপী পুনর্মিলনীতে প্রায় আড়াই হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে আড্ডা, গল্প ও স্মৃতিচারণায় মেতে উঠেছেন। প্রতিষ্ঠানটির ১০৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে নানা বর্ণিল আয়োজনে সেজে উঠেছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠানমালা
সকাল নয়টার আগেই প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত হতে শুরু করেন। সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় প্রথম দিনের কার্যক্রম। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও সাবেক সিএসপি কর্মকর্তা মো. গোলাম রসুল। এরপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণা করে বক্তব্য দেন। মাঝখানে নামাজ ও দুপুরের খাবারের বিরতি দিয়ে আবার শুরু হয় স্মৃতিচারণার পর্ব, যা বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চলে। সন্ধ্যায় স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীতানুষ্ঠান শুরু হয় এবং রাত ১১টা পর্যন্ত চলে এই সাংস্কৃতিক আয়োজন।
দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাফফাত আরা সাঈদ। এরপর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণা শুরু হয়। নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দিয়ে বেলা আড়াইটায় এলাকার উন্নয়নমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে। সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সংগীতানুষ্ঠান শুরু হবে, মাঝখানে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে র্যাফেল ড্র আয়োজিত হবে। এরপর আবার সংগীতানুষ্ঠান চলবে রাত ১১টা পর্যন্ত, যা দিয়ে শেষ হবে এই দুই দিনব্যাপী আয়োজন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনুভূতি
১৯৬১ সালে এই বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করা প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন বলেন, 'ক্লাসে আমরা ৬০ জন শিক্ষার্থী ছিলাম, বেশির ভাগই হিন্দু এবং মেয়ে শিক্ষার্থী ছিল মাত্র পাঁচজন। অনুষ্ঠানে এসে পুরনো বন্ধুদের একজনের সঙ্গেও দেখা হয়নি, যা একটু খারাপ লাগছে। তবে পরের ব্যাচের অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে গল্প করে ভালো সময় কাটছে।' যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা চিকিৎসক নজরুল ইসলাম, যিনি ১৯৮০ সালে এখান থেকে পাস করেছিলেন, বলেন, '৪৫ বছর পর এসে ছয়-সাতজন বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছে, তাদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে খুবই ভালো লাগছে।' ১৯৮৫ সালে পাস করা সরকারি চাকরিজীবী শামসুন্নাহারও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।
বিদ্যালয়ের ইতিহাস
বসুন্দিয়া হাই ইংলিশ স্কুল ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯২২ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী স্বীকৃতি পায়। সময়ের সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তিত হয়ে বসুন্দিয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বসুন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সর্বশেষ বসুন্দিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে পরিচিতি লাভ করে। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির ১০৭ বছর পূর্ণ হয়েছে, যা এই শতবর্ষপূর্তি উদযাপনের মূল উপলক্ষ হিসেবে কাজ করছে।



