চাঁদপুরের মতলব উত্তরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগামীকাল ঈদুল ফিতর উদ্যাপন
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ১৫টি গ্রামে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সংগতি রেখে আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে। এসব গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার লোক ঈদ উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেনাকাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তরের ১৫টি গ্রামসহ জেলার অন্তত ৪০টি গ্রামে কাল ঈদ উদ্যাপিত হবে, যা একটি অনন্য ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঈদ উদ্যাপনের গ্রামগুলোর তালিকা
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, আগামীকাল উপজেলার পাঁচানী, আইটাদি পাঁচানী, পশ্চিম পাঁচানী, দেওয়ানজীকান্দি, সাতানি, মাথাভাঙ্গা, আইটাদি মাথাভাঙ্গা, বাহেরচর ও লতুরদিসহ মোট ১৫টি গ্রামে ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে। এসব গ্রামের বাসিন্দারা ঈদের আনন্দ উপভোগের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন, আত্মীয়স্বজনকে আগাম শুভেচ্ছা ও দাওয়াত দিয়েছেন।
ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট
জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামের প্রয়াত পীর মাওলানা মো. ইসহাকের অনুসারী হিসেবে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সংগতি রেখে তাঁরা ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করছেন। এই রীতি অনুযায়ী জেলার ৪০টি গ্রামে তাঁর অনুসারীরা আগামীকাল ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করবেন, যা প্রায় ৭০ বছর ধরে চলে আসছে। উপজেলার পাঁচানী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, তাঁর এলাকার লোকজনসহ আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের মুসলমানরা আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করবেন, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া
উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকার দুই বাসিন্দা জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে তাঁরা আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করবেন। এতে সুবিধা হচ্ছে, নিজেদের গ্রামে ঈদ উদ্যাপন করার পরের দিন আগামী শনিবারও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে আবার ঈদের আনন্দ উপভোগ করা যাবে, যা উৎসবের সময়কে দ্বিগুণ করে তুলেছে। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এই রীতিতে ঈদের উৎসব উপভোগ করছেন, যা স্থানীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনের মন্তব্য
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মণি বলেন, তাঁর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে আগামীকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করা হচ্ছে জেনে ভালো লাগছে। এসব গ্রামের লোকদের জন্য রইল আগাম ঈদের শুভেচ্ছা, এবং তিনি স্থানীয় সম্প্রদায়ের এই ঐতিহ্যবাহী উদ্যাপনকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এই ঈদ উদ্যাপন শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি স্থানীয় ঐতিহ্য, সামাজিক বন্ধন এবং আন্তর্জাতিক সংগতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা চাঁদপুর জেলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করছে।



